নন্দীগ্রাম মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক ভিন রাজ্যে, সুপ্রিম কোর্টে আর্জি শুভেন্দুর

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কলকাতা হাইকোর্টে চলছে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম মামলা। এবার নন্দীগ্রাম মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক ভিন রাজ্যে, চাইছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই মর্মে শুভেন্দু অধিকারী আর্জি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে। শুভেন্দুর কথায়, নন্দীগ্রাম মামলার নিরপেক্ষ বিচার চাই। তাই ভিন রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক নন্দীগ্রাম মামলাকে। কলকাতা হাইকোর্টে নন্দীগ্রাম মামলার নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যাবে না। তাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছি। এই মামলার যাতে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যায় এবং অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হোক মামলাটিকে। 
প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে চলছে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে চলছে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি। আর এদিন শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার বেশ কিছু নির্দেশ দিলেন সিইওকে। কী সেই নির্দেশ?‌ তা হল নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষিত রাখতে হবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে ভিডিওগ্রাফি, ইভিএম, ভিভিপ্যাট। এদিন নন্দীগ্রাম মামলার ভার্চুয়াল শুনানি হয়। বিচারপতি শম্পা সরকার এদিন নন্দীগ্রাম মামলার সব পক্ষকেই নোটিস পাঠালেন। সবপক্ষ অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, নির্বাচন কমিশন এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার। নন্দীগ্রাম মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট হবে নন্দীগ্রাম মামলার পরবর্তী শুনানি। 
উল্লেখ্য, হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম মামলার বেঞ্চ আগেই বদল করা হয়েছে।  বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হোক চাইছিলেন না মমতা ব্যানার্জি। কারণ কৌশিক চন্দের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের যোগ রয়েছে বলে সবর হন তৃণমূল নেতৃত্ব। এর পাশাপাশি তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, বিজেপির হয়ে এর আগে একাধিক মামলা লড়েছেন আইনজীবী থাকাকালীন কৌশিক চন্দ। নন্দীগ্রাম মামলা থেকে নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তাই নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হয় বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে। গত সপ্তাহের বুধবারই নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ান হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। বিচার ব্যবস্থাকে কুলষিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই ৫ লক্ষ টাকা রাজ্য বার কাউন্সিলকে দিতে বলা হয়েছে। ওই ৫ লক্ষ টাকা কোভিড চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আইনজীবী জানিয়ে দিয়েছেন ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। তাই এখনই ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়া হচ্ছে না। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি এবং শুভেন্দু অধিকারী। আর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নন্দীগ্রামে পুনর্গণনার দাবিতেই হাইকোর্টে মামলা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। নন্দীগ্রাম মামলা কোনদিকে মোড় নেয় সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।