আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বীরভূমের ‌দেউচা পাঁচামিতে কয়লা খাদান তৈরির প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই প্রকল্পে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হবে বলেও ঘোষণা তাঁর। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খাদান তৈরির প্রকল্পের কথা জানালেন তিনি। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেউচা–পাঁচামিতে কয়লা ব্লক তৈরি করতে মোট ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করতে হবে। কাজ শেষে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। পাঁচ বছর পর থেকেই শুরু হবে কয়লা উত্তোলনের কাজ। দেউচা–পাঁচামির কয়লা খাদান তৈরি হলে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বীরভূমের দেউচা–পাঁচামি এলাকায় ১১ টি মৌজা এলাকায় প্রায় ১১,‌২২২.‌৫ একর জমি জুড়ে তৈরি হবে এই কয়লা খাদান। ওই খাদান থেকে উত্তোলন করা যাবে ২১০২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা যা আগামী ১০০ বছরের কয়লার চাহিদা মিটিয়ে দেবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 
বীরভূমের হরিণসিঙা এলাকায় এই কয়লাখনি তৈরির প্রকল্প গত তিন বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কোনও কারণে সেটি আটকে ছিল। এবার নতুন করে রাজ্যের হাতে সেই কয়লাখনি তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ওই অঞ্চলে দুটি ভাগে জনবসতি গড়ে উঠেছে। একটি এলাকায় রয়েছে ৩৯৫টি পরিবার। আরেকটি এলাকায় রয়েছে ৩৮৯টি পরিবার। এঁদের মধ্যে ৪০ শতাংশই আদিবাসী। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির কাজ হবে, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অর্জন করা। প্রকল্পের ফলে তাঁদের যে ক্ষতি হবে না, বরং লাভ হবে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ওই এলাকা থেকে তুলে নিয়ে এসে অন্য সুরক্ষিত এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। এমনই নানা প্রাথমিক কাজের জন্য লাগবে তিন বছর। 
এই প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদ থেকে ১০০ কোটি টাকা চেয়েছে রাজ্য সরকার। ওই ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৫০ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। বাকি ৫০ কোটি টাকায় প্রকল্প রূপায়নের কাজকর্ম করা হবে। পাঁচ বছর পর কয়লা খনিতে উত্তোলনের কাজ শুরু হলে কেন্দ্রের কাছে রাখা ৫০ কোটি ফেরত পাবে রাজ্য সরকার। 
এছাড়াও এদিন একলক্ষের বেশি নারকেল গাছ রোপণ করার কথাও বলেন মমতা ব্যানার্জি। বাজ পড়ার ঘটনা রাজ্য জুড়ে বাড়ছে। নারকেল গাছ রোপণ করা হলে বাজ পড়ার ঘটনা কমবে। সেই জন্যই নারকেল গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী।   

জনপ্রিয়

Back To Top