Spain-Germany: স্প্যানিশ শাসন জারি থাকবে জার্মানি ম্যাচেও, বার্তা কোচের

মুনাল চট্টোপাধ্যায়, দোহা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কোস্টা রিকাকে সাত গোলের লজ্জা দিয়ে অভিযান শুরু করেছে স্পেন।

অনেকেই স্পেনের খেলা দেখে মজা করে বলছেন, সব গোল এক ম্যাচেই করে ফেলল না তো!‌ কোচ লুই এনরিকের গলায় অবশ্য অন্য সুর। বিপক্ষ দলগুলিকে বার্তা দিয়ে রাখলেন, প্রথম ম্যাচের পর তাঁর ছেলেদের খিদে আরও বাড়বে। কোস্টারিকা স্পেনের গোল লক্ষ্য করে গোটা ম্যাচে একটিও শট নিতে ব্যর্থ হয়। স্পেনের পরের ম্যাচ খোঁচা খাওয়া জার্মানির সঙ্গে। প্রথম ম্যাচে জার্মানরা এগিয়ে থেকেও জাপানের কাছে ১–২ হেরেছে। স্পেনের কাছে হার মানলে রাশিয়ার মতো কাতারেও মোটামুটিভাবে গ্রুপপর্বে বিদায় নেওয়া নিশ্চিত। তবুও এনরিকে বিন্দুমাত্র তাঁর কোস্টারিকা ম্যাচের আগ্রাসনের সঙ্গে আপস করতে চান না। বুধবার রাতের আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। সেবার বুলগেরিয়াকে ৬–১–এ পর্যুদস্ত করেছিল স্পেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ওই ম্যাচে গোলদাতাদের তালিকায় নাম ছিল স্পেনের বর্তমান কোচ লুই এনরিকেরও।
জার্মানি ম্যাচের মেজাজ নিয়ে বলতে গিয়ে স্পেনের কোচ শোনালেন, ‘‌একই উদ্যম নিয়ে পরের ম্যাচে খেলব। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এ কথা সত্যি যে, প্রশংসায় মানুষ দুর্বল হয়। কিন্তু, এই ছেলেগুলোর ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না। ওদের আমি অনেকদিন ধরে দেখছি। ওরা পরিশ্রম করতে চায়। লড়াই করতে চায়।’‌ একটা দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি। সেইদিক থেকে স্পেন বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেঞ্চে বসতে হয় বার্সিলোনা তারকা আনসু ফাতি এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মার্কোস লরেন্তেকে।
স্পেন তাঁদের তিকিতাকা ঘরানায় শুধু ফিরল না, রাজত্ব করল প্রথম ম্যাচে। ৯০ মিনিটে রেকর্ড ১০০৩টি পাস খেলল। এ প্রসঙ্গে কোচ এনরিকের বক্তব্য, ‘‌লক্ষ্য ছিল, মাঝমাঠে যত বেশি সম্ভব বল ছোঁয়া। চেয়েছিলাম অনবরত নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সেজন্য বল পায়ে থাকা জরুরি।’‌

প্রথম ম্যাচ থেকে একজন কোচ হিসেবে এনরিকের প্রাপ্তি হয়তো শ’‌খানেক। তবে ওই তালিকার শীর্ষে জায়গা পাবে বার্সিলোনার তরুণ তুর্কি গাবি। বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে কমবয়সি গোলদাতা হয়েছেন কোস্টারিকা ম্যাচের পর। ১৮ বছরের ফুটবলারের মধ্যে আগামীর তারকাকে দেখছেন এনরিকে। প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘‌ও প্রতিদিন আগেরদিনের চেয়ে ভাল ফুটবল উপহার দিচ্ছে। বল এবং বল ছাড়া, দু’‌ক্ষেত্রেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। গাবি একেবারে আলাদা। আলাদা বলছি, কারণ ওর বয়সটা মাত্র ১৮। কিন্তু ইতিমধ্যেই ওর ব্যক্তিত্ব একজন পরিণত, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতো। ওর মতো একজন ফুটবলারকে দলে পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। ও ভবিষ্যতের তারকা হয়ে উঠবে।’‌‌‌

আকর্ষণীয় খবর