বাগদেবীর আরাধনা: স্কুলে স্কুলে উৎসাহ তুঙ্গে

কৌশিক রায়: বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে'র আর এক নাম সরস্বতী পুজো। দু'দিন আগে থেকে রাত জেগে স্কুলে প্রস্তুতি, পুজোর দিন সকালে অঞ্জলি দিয়েই শাড়ি পরে সোজা স্কুল। নার্সারি থেকে প্রাক্তনী সবার কাছে সরস্বতী পুজোর আনন্দটা সমান। আর গত দু বছরের অতিমারি কাটিয়ে এবারে অনেক আগে থেকেই পুজোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যের প্রায় সমস্ত স্কুল। কেনাকাটা থেকে শুরু করে আশেপাশের স্কুলে নিমন্ত্রণ করতে যাওয়া, আল্পনা দেওয়া, প্যান্ডেল তৈরি, শিক্ষকদের সঙ্গে একসাথে বসে খাওয়া সবই চলছে পুরোদমে। 

উত্তর কলকাতার নামকরা স্কুল বাগবাজার মাল্টিপারপাস বালিকা বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল একদিকে মিড ডে মিল চলছে, অন্যদিকে পুরোদমে চলছে পুজোর কাজ। কাজের ফাঁকে এসে এক একজন করে ছাত্রী খেয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্বে একজন করে শিক্ষিকা রয়েছেন। স্কুলের পুজোর কাজে হাত লাগানোর মত মজা তো আর কিছুতেই নেই। এই সময়টায় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বন্ধুর মত মিশে আনন্দ ভাগ করে নেন শিক্ষিকারা। বাগবাজার মাল্টিপারপাস স্কুলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও পুজো হচ্ছে সাবেকি ধারা মেনেই। পুজোর কাজে হাত লাগিয়েছেন পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা। বোনাস হিসেবে এবার একই দিনে পড়েছে প্রজাতন্ত্র দিবস। বড় বড় আর্টপেপারে পুরোদমে চলছে শেষ মুহূর্তের আঁকা। দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জানালেন, 'প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন পুজো পড়ায় আর্টপেপারে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি আঁকছি। পুজোর শ্লোক লেখা হচ্ছে। সেগুলোও টাঙানো হবে।' বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকেই দেখা গেল লম্বা করিডোর জুড়ে চলছে আল্পনা দেওয়ার কাজ। সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয় হওয়ার আগে বাচ্চারা অবসর সময় কাটাত বই পড়ে।

নন্টে ফন্টে, বাঁটুল দি গ্রেট, ম্যানড্রেক, অরণ্যদেবের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত ছোটবেলায়। সেই চিত্রকেই আরও একবার ফুটিয়ে তুলেছে পার্ক ইনস্টিটিউশন। প্যান্ডেলে থাকবে সহজ পাঠ, বর্ণপরিচয়ের ছোঁয়াও। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, পুজোর কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সবাই হাত লাগিয়েছে পুজোর কাজে। একদম ছোটদের আঁকতে দেওয়া হয়েছে। একটু বড় ক্লাসের ছাত্ররা জায়গা মত সাজিয়ে দিচ্ছে। একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্ররা হাত লাগিয়েছে প্যান্ডেলের কাজে। ছাত্রীরা পুজোর জায়গায় আল্পনা দিতে ব্যস্ত। স্কুল ছুটি হয়ে গেলেও বাড়ি যাওয়ার নাম নেই। অনেকে বাড়ি গিয়ে আবার চলে আসছে স্কুলে। সময় মতো সব শেষ করতে হবে যে। কিছু দরকার লাগলেই ছাত্ররা ছুট্টে চলে যাচ্ছে দোকানে। কাকু এটা দাও, কাকু ওটা দাও। মনে করে বিল করে দিও কিন্তু , নাহলে ম্যাম বকবেন। এর মধ্যেও রয়েছে অনাবিল এক আনন্দের ছোঁয়া। 

পুরোদমে পুজোর কাজ চলছে বেথুন কলেজিয়েট স্কুলে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শবরী ভট্টাচার্য জানালেন, সাবেকিয়ানার ছোঁয়ায় করা হচ্ছে পুজো। বড় হলঘরে বেদীর ওপর রাখা হয়েছে ঠাকুর। বেদীর চারপাশে বড় বড় ঘট এবং সরায় বিভিন্ন চিত্র এঁকেছেন ছাত্রীরা। হলঘরের ঠিক মাঝখানে বড় করে আল্পনা আঁকা হয়েছে। শবরী দেবী জানান, 'এবারের পুজোয় ছাত্রীদের থেকেও বেশি উৎসাহ রয়েছে প্রাক্তনীদের। গত দু'বছর ওরা আনন্দ করতে পারেনি। এবারে প্রায়ই স্কুলে এসে খোঁজ নিয়ে যাচ্ছে।' ২৬ জানুয়ারি সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি প্রত্যেক স্কুলে পালিত হবে প্রজাতন্ত্র দিবসও। কাজেই চাপ একটু বেশি। কিন্তু সেই চাপের মধ্যেও আনন্দের পরিমাণ এতটাই বেশি হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছেন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকারা। 

আকর্ষণীয় খবর