আজকালের প্রতিবেদন‌‌‌‌: রাজ্যের মুকুটে আরও এক নতুন পালক। ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’‌র পর রাষ্ট্রপুঞ্জের পুরস্কার পেতে চলেছে রাজ্যের ‘‌সবুজসাথী’‌ প্রকল্প। স্কুলছুট কমাতে ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার প্রকল্প ‘‌সবুজসাথী’‌। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এই স্বপ্নের প্রকল্প এবার পাচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের পুরস্কার। ১,১৪০টি প্রকল্পের মধ্যে থেকে সেরা পাঁচটি প্রকল্পে জায়গা করে নিয়েছে ‘‌সবুজসাথী’‌। রাষ্ট্রপুঞ্জের ২০ লক্ষেরও বেশি সদস্য ভোট দিয়েছেন। আর সেই ভোটপ্রাপ্তির বিচারেই ৫টি প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছে ‘‌সবুজসাথী’‌। ৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপুঞ্জের আইটিইউয়ের প্রধান দপ্তর জেনেভায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে। ওই অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বলতে হবে, কীভাবে তারা এই প্রকল্প রূপায়িত করল। যাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশও এই ধরনের প্রকল্প চালু করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এই সম্মানে 
খুশি অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তর–সহ 
রাজ্য সরকার। 
২০১৫ সালে পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী সাইকেল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি মনে করেছিলেন নবম, দশম ও একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি থেকে স্কুলে আসার সময় দূরত্ব অনেক সমস্যা তৈরি করে। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব বেশি হলে অনেক মেয়েই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই সমস্যা কমাবে সাইকেল। তাঁর এই ভাবনা থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। সাইকেল দেওয়ার দায়িত্ব পায় অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এই দপ্তরের প্রধান সচিব সঞ্জয় থাড়ে দক্ষতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যেই ৭৫ লক্ষ সাইকেল সারা রাজ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। এর ফলে উল্লেখ্যভাবে কমেছে স্কুলছুটের সংখ্যা। বিশ্বের আর কোনও দেশে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে এই প্রকল্পের কথা জানার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্যদের বিপুল ভোট পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে জনপ্রিয়তার শিখরে উঠেছে এই প্রকল্প।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘‌প্রতীচী’‌ সংস্থাও ‘‌সবুজসাথী’ প্রকল্পে‌র ভূয়সী প্রশংসা করেছে। অমর্ত্য সেন মনে করেন, ছেলেমেয়েদের সাইকেল দেওয়ার ফলে স্কুলে যাওয়ার উৎসাহ বেড়েছে।‌ বিশ্বের দরবারেও এই প্রকল্পের সম্মান পাওয়া বাংলার কাছে গর্বের বিষয়।‌ প্রসঙ্গত, গতকালই জানা গেছে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় তৈরি  প্রকল্প ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’‌ রাষ্ট্রপুঞ্জের পুরস্কার পাচ্ছে। ‘‌ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’‌ বিভাগে জমা পড়া ১৪৩টি আবেদনের মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত হয় ৫টি প্রকল্প। তার মধ্যেই রয়েছে ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’।‌ রাজ্যের যুবসম্প্রদায়ের দক্ষতা বাড়াতে ২০১৬ সালে কারিগরি দপ্তরের অধীনে পলিটেকনিক, আইটিআই ও ভোকেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্টকে এক ছাতার তলায় এনে এই প্রকল্প চালু হয়। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিচারে সেরার তকমা পেয়েছে রাজ্যের 
‘‌কন্যাশ্রী’‌ প্রকল্পও।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top