আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রত্যাশিতভাবেই বুধবার সকাল থেকেই রোগীদের চূড়ান্ত হয়রানি ও বিক্ষোভের দৃশ্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১২ ঘণ্টা বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় শুরু হয় পথ অবরোধ।
এনআরএসের মূল গেট বন্ধ থাকার কারণে পথ অবরোধ করেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। এজেসি বোস রোড, শিয়ালদহমুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় বেলা এগারোটা নাগাদ। লাইন দিয়ে রাস্তার দু’‌ধারে দাঁড়িয়ে যায় বাস ও অন্যান্য গাড়ি।
এনআরএসে হামলা ও জুনিয়র চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন। অন্যদিকে এনআরএসে হামলায় গুরুতর আহত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জির অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অপর জখম চিকিৎসক যশ তেকওয়ানি এনআরএসে সিসিইউ–তে চিকিৎসাধীন।
দূর–দূরান্ত থেকে আসা রোগীর পরিবারের লোকেরা রাস্তা অবরোধের কারণে কাজের দিন সকালে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এসএসকেএম হাসপাতালের কাছে। রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকেরা বহির্বিভাগের সামনে ভিড় করলেও দরজা খোলা হয়নি। কেউ এসেছেন, মালদহ, সুন্দরবন, পুরুলিয়া থেকে। কারও আউটডোরে দেখানোর কথা। কারও বা জরুরী বিভাগে। কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। বড় রাস্তায় গিয়ে অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকজন। 
মেডিকেল কলেজেও ছিল রোগীদের ভিড়। সকাল ন’‌টায় আউটডোর খুলবে না জেনেও রোগীদের ভিড় ছিল। বেসরকারি হাসপাতালেও চিত্রটা এক। বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী দেখেননি চিকিৎসকরা। জেলার হাসপাতালেও ছিল ছিল মোটামুটি একই চিত্র। 
সোমবার তপসিয়ার এক বাসিন্দার মৃত্যু হয় এনআরএসে। রোগীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় গাফিলতিতেই মারা গেছেন রোগী। এরপর রোগীর পরিবারের লোকেরা হেনস্থা করেন হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের। মারধর করা হয়। গুরুতর জখম হন পরিবহ মুখার্জি। তারই প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top