আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রমেই আরও ঘনীভূত হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুরহস্য। অভিনেতার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর অনুরোধ খারিজ করে তাঁকে শুক্রবারই জেরার জন্য তলব করেছিল ইডি। ইডি বলেছিল, এদিন সকাল ১১.‌৩০ মিনিটের মধ্যে রিয়া ইডি–র মুম্বইয়ের অফিসে না পৌঁছলে তাঁকে নতুন করে সমন পাঠানো হবে। ইডির কড়া বার্তা পেয়ে আর কালবিলম্ব না করে বেলা ১২টার আগেই ইডি–র অফিসে পৌঁছে যান তিনি। তাঁর আইনজীবী অবশ্য বলেন, রিয়া আইন মানা নাগরিক। তাই আবেদন খারিজ হতে নিজেই হাজিরা দিয়েছেন। রিয়ার বিরুদ্ধে সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা কারচুপির অভিযোগে বিহার পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেন সুশান্তের বাবা কেকে সিং রাজপুত। তার ভিত্তিতেই রিয়াকে তলব করেছে ইডি। এর আগে রিয়ার ইডি–কে অনুরোধ করেছিলেন, যে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে তাঁর বয়ান যেন নথিভুক্ত না করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে রিয়া এই মর্মে পিটিশন দাখিল করেন যে, বিহার থেকে মামলাটি মহারাষ্ট্রে পাঠানো হোক। রিয়ার পিটিশনের বিরোধিতায় বিহার সরকার সুপ্রিম কোর্টে এফিডেভিট দায়ের করে বলেছে, রিয়ার পিটিশন শুধু মিথ্যা কল্পনাই নয, যেটা ঠিক মতো প্রস্তুতও করা হয়নি। বিহার সরকার এফিডেভিটে বলেছে, রাজ্য সরকারেও এই মামলার তদন্তের বৈধতা আছে।
শুধু রিয়াই নয়, ইডি সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদিকেও শুক্রবারই অফিসে হাজির হতে সমন পাঠিয়েছে ইডি। এবং সুশান্তের এক বন্ধু সিদ্ধার্থ পিঠানিকে শনিবার অফিসে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছে। কারণ তিনি বলেছিলেন জেরায় যে সুশান্তের নাকি নিজের ডায়রির পাতা ছেঁড়ার অভ্যাস ছিল। বৃহস্পতিবার বম্বে হাই কোর্ট সুশান্তের মৃত্যুরহস্যের তদন্তে সিবিআই চেয়ে করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত মুলতুবি রাখল।
সুশান্তের মৃত্যুরহস্যের তদন্ত সিবিআই–এর যে এলিট টিম করছে তার নেতৃত্বে আছেন, এসপি নুপুর প্রসাদ। দলের অন্য অফিসারদের মধ্যে আছেন বিহারের বাসিন্দা, ২০০৪ ব্যাচের মহিলা আইপিএস অফিসার, গগনদীপ গম্ভীর। অখিলেশ যাদবের আর্থিক নয়ছয়ের তদন্তও করেছিলেন গগনদীপ। তাঁকে সহযোগিতা করবেন গুজরাট ক্যাডার, ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার, তথা সিবিআই–এর যুগ্ম ডিরেক্টর মনোজ শশীধর। মনোজও বিহারের মুজাফফ্‌রপুরের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, কোয়ারানটাইন করে রাখা, বিহার পুলিশের আরেক আইপিএস অফিসার বিনয় তিওয়ারিকে শুক্রবার ছেড়ে দিল বিএমসি। এদিন বিবৃতি দিয়ে একথা জানিয়ে বিএমসি বলেছে, শনিবারের মধ্যে বিনয়কে পাটনা ফিরে গিয়ে ডিউটিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বিহার পুলিশ অভিযোগ করেছিল, বিনয়কে কোয়ারানটাইন করা হয়নি, বরং তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। কারণ গত রবিবার বিহার পুলিশের বিশেষ দল পাটনা থেকে মু্ম্বই পৌঁছতেই তাঁকে কোয়ারানটাইন করা হয়। আর সিবিআই বিহার পুলিশের হাত থেকে তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার দুদিন পরই বিনয়কে ছেড়ে দেওয়া হল। বিহারের ডিজি গুপ্তেশ্বর পান্ডে বিনয়ের মুক্তির খবর পেয়েই শুক্রবার সকালে টুইটারে লেখেন, সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য মেনে বিহার পুলিশ বিএমসি–কে চিঠি লিখে বিনয়কে ছাড়তে অনুরোধ করেছিল। সেই মতো তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিএমসি–কে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন গুপ্তেশ্বর।
ছবি:‌ এএনআই‌

জনপ্রিয়

Back To Top