আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এখনও ভ্যাকসিন আসেনি। তাই করোনা সংক্রমণ রোখা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বাংলা–সহ আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকেই সকলের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে একযোগে কাজের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় সংক্রমণ যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। কেন্দ্রের কাছে বকেয়া পাওনা নিয়েও সুর চড়ালেন তিনি। বৈঠকে মোদি ছাড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ–সহ অন্য মন্ত্রীরা।
মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে মমতা ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে, রাজস্থানের অশোক গেহলট, গুজরাটের বিজয় রূপানি, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হরিয়ানার মনোহরলাল খট্টর, কেরলের পিনারাই বিজয়ন এবং ছত্তিসগড়ের ভূপেশ বাঘেল।
সোমবারই বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক সভামঞ্চ থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। কেন এত দেরি হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার পরেরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার মোদির সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত ভ্যাকসিনের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। যত দ্রুত ভ্যাকসিন আনার জন্য কেন্দ্র অথবা যেকোনও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশের কথাও বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। 
মমতা বলেছেন, ‘‌দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজো নির্দিষ্ট কোভিড বিধি মেনে পালন করা হয়েছে। তাই তারপর সংক্রমণের গ্রাফের বিশেষ হেরফের হয়নি। আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও তা কখনই হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়নি।’‌ বাংলায় ঊর্ধ্বমুখী সুস্থতার হারের কথাও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইরাসের মোকাবিলায় আশাকর্মীরা ভাল কাজ করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হলেও আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগে আরও একবার সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বকেয়া অর্থ ফেরতের দাবিতেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, কোভিড পরিস্থিতিতে রাজ্য খরচ করেছে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা। যদিও রাজ্য পেয়েছে ১৯৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে রাজ্য জিএসটি বাবদ প্রায় ৮৫০০ কোটি টাকা পায় বলেও এদিন তিনি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কথায় সুর মিলিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা ভেবে রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল এখনও কিছুদিন এড়িয়ে চলার পক্ষেই সম্মতি দেন মমতা।
বৈঠকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, ‘‌রাজ্যে প্রতিদিন ৩০ হাজার কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে।’‌ দিল্লিতে দিনদিন সংক্রমণ বাড়ছে। এর পিছনে দূষণকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। 
ভার্চুয়াল বৈঠকে মোদি বলে দিয়েছেন, ভ্যাকসিন এলেই তা আগে দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের। এরপর ধাপে ধাপে পুলিশ থেকে ৫০ বছরের উর্ধ্বে নাগরিকদের ও যাদের কো–মর্বিডিটি রয়েছে তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।  

 

 

 


 

জনপ্রিয়

Back To Top