সব্যসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি, ২১ অক্টোবর- এনআরসি প্রশ্নে শিলিগুড়ির মাটিতে দঁাড়িয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষকে বরাভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মাল্লাগুড়িতে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে দঁাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‌এখানে আমি এনআরসি করতে দেব না। এটা আপনাদের নিশ্চিন্ত করে দিয়ে গেলাম। কোনও এনআরসি হবে না। একটা জিনিস মনে রাখবেন কোনও ভাগাভাগি হবে না।’‌ তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‌বাংলা শান্তির বাংলা, আমরা শান্তি চাই। এই বাংলায় এসব আমরা করতে দেব না। সব মানুষের থাকার অধিকার এখানে আছে। নিশ্চিন্তে থাকুন আমরা আপনাদের পাহারাদার।’‌ এরপরই তঁার সংযোজন ‘‌এটা আমাদের সরকার। আর আমাদের সরকার ছিল, আছে, এবং থাকবে।’‌
শুধু এনআরসিতেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী, বিঁধেছেন কেন্দ্রের বহু প্রচারিত সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টকেও। বলেন, ‘‌ছ’‌বছরের জন্য বিদেশি করে দেওয়া হবে। কত লোক মরে যাবে। ছ’‌বছর পরে ঠিক করবে। আমরা সবাই নাগরিক এটা মনে রাখবেন। আমরা বাংলার মাটিতে যারা বাস করি তারা সবাই ভারতবর্ষের নাগরিক। এই অধিকার আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দিয়েছে।’ ভাগাভাগি নিয়ে নাম না করে বিজেপি–‌‌র রাজনৈতিক কৌশলকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌কেউ কেউ কোনও একটা কমিউনিটির কাছে গিয়ে বলছে হিন্দিভাষীরা থাকবে না শুধু তুমি থাকবে।’‌ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী অসমে এনআরসি তালিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান অসমে যে ১৩ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ১ লক্ষ হিন্দিভাষী, ১ লক্ষ পাহাড়ি, যে বাঙালিদের বাদ হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেক রাজবংশীও আছে। বিভাজনের রাজনীতিকে তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, হিন্দু–মুসলমান, হিন্দিভাষী–উর্দুভাষী, ব্রাহ্মণ–ক্ষত্রিয়র মধ্যে ভাগ করা হচ্ছে। 
এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অমিত মিত্র, মলয় ঘটক, গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, ইন্দ্রনীল সেন। ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায়চৌধুরী, হর্ষবর্ধন নেওটিয়া, কমল মিত্তাল, রুদ্র চ্যাটার্জির মতো শিল্পপতিরা। ফিকি ও সিআইআইয়ের মতো বণিকসভার কর্তারা। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, ডিজি বীরেন্দ্র–‌সহ একঝঁাক ছোট বড় পুলিশকর্তা। কমিশনারের মাঠ কানায় কানায় ভরিয়ে দেওয়া জনতাকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। জানান, পুজোর সময় কলকাতায় থেকে রাত জেগে তাঁকে পাহারা দিতে হলেও তিনি সব জায়গার পুজোর ওপর নজর রাখেন। উত্তরবঙ্গ জুড়ে উৎসব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমরা সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক করেছি।’‌ নিজের ভাষণে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রসঙ্গকেও ছুঁয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। জানান, উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং নতুন জেলা হয়েছে। উত্তরকন্যা হয়েছে, ভোরের আলো হয়েছে। সেখানে আগামী ৩–৪ মাসের মধ্যে ফ্লাইওভার হয়ে যাবে। বেঙ্গল সাফারি হয়েছে। কোচবিহার, মালদা, বালুরঘাটের বিমানবন্দরের কথা, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ করার কথা তুলে ধরেন তিনি।  শিলিগুড়ির সঙ্গে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটানের সড়কপথে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‌উত্তরবঙ্গ সব পেয়েছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’‌‌

 

শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: সৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top