আজকালের প্রতিবেদন: ভোটার তালিকায় নিজের নাম, তথ্য যাচাই করার নতুন পদ্ধতিতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটার কার্ডের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল চালু করেছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন। যাঁদের কাছে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে তাঁরা এই সুবিধা নিতে পারেন। পোর্টালের নাম nvsp.in‌‌। এই লিঙ্কে ক্লিক করলেই পাঠানো হবে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (‌ওটিপি)‌। এই পাসওয়ার্ড দিলে চলে আসবে ভোটার কার্ডের ফরম্যাট, যেখানে ভোটারের সব তথ্য থাকবে। সেখানে দিতেই হবে তাঁর অথবা পরিবারের কারোর মোবাইল নম্বর। পাশাপাশি আধার, প্যান, রেশন কার্ড বা ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের তথ্য। জেনে নিতে পারবেন তাঁর নাম, বয়স ঠিকানা–‌সহ যাবতীয় তথ্য ঠিক আছে কিনা। কোথাও কোনও তথ্য ভুল থাকলে তা ঠিক করা যাবে এই ফর্মেই। যাঁদের স্মার্ট ফোন আছে, তাঁদের যেতে হবে ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপসে। তথ্য যাচাই বা সংশোধন করার এই পদ্ধতি খুবই জটিল। যদি পরিচয়পত্র হিসেবে কোনও নথি জমা দিতে হয় তাহলে তা স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
এই অ্যাপস এবং পোর্টাল চালু করার কারণ, মোবাইল নম্বরেই নির্বাচন কমিশন জানাতে পারবে তাদের কর্মসূচি। ভোটারের সব তথ্য গোপন থাকবে। কমিশনের সার্ভারে সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে দেশের লাখ লাখ গরিব মানুষ যাঁদের হাতে কম্পিউটার তো দূরের কথা, মোবাইলও পৌঁছয়নি তাঁরা কী করবেন?‌  প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কম্পিউটার বা মোবাইলের সুবিধে এখনও পৌঁছয়নি, সেখানকার মানুষ কীভাবে নিজেদের ভোটার কার্ডের তথ্য যাচাই করবেন। বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি যাবেন। যে কোনও একটি সচিত্র পরিচয়পত্র পেলে তাঁরাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে এই সুবিধে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। শহরাঞ্চলেও ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়ে গেছে, চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। কমিশনের মূল উদ্দেশ্য কারও ভোটার কার্ডে কোনও রকম ভুল যাতে না থাকে। এ রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৯৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯১২। ১৯৫০ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করলে বিশদে জানা যাবে। এছাড়াও www.ceo.wb.nic.in‌ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যাবে। পাশাপাশি ভোটাররা তাঁদের মতামতই জানাতে পারবেন। বুথ কেন্দ্রগুলি কেমন, পানীয় জল, শৌচাগার, র‌্যাম্প আছে কিনা। কাছাকাছি সরকারি বিল্ডিংয়ে বুথ করা যেতে পারে কিনা সে বিষয়েও জানাতে পারেন। এরাজ্যের ১০০ শতাংশ ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র রয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে, গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটার সহায়তা সেন্টার খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটার এবং ভোটারের পরিবারের বিষয়েও সবরকম তথ্য জানা থাকবে নির্বাচন কমিশনের। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top