অমিতাভ সিরাজ: বই তুমি কার?‌ প্রাচীন প্রবাদ— যে পড়ে তার।ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগেও তাই এর কদর যে একচুলও কমেনি, কলকাতা বইমেলা ৪৩ বছরে পড়ে তা আবারও প্রমাণ করল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তাই মনে করেন, ‘‌বই ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ’‌। তাঁর কথায়, ‘‌অনেকে কম্পিউটারের কথা বলে, কিন্তু বইয়ের বিকল্প নেই। তাই আরও ভাল করে, বেশি করে বই পড়ুন।’‌
বৃহস্পতিবার এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যায় লাতিন আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালাকে সঙ্গী করে সূচনা হল কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আরও এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে ৪৩তম এই আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন গুয়েতেমালার প্রথম সারির লেখক ইউদা মোরালেস।
বই তাঁর নিত্য সঙ্গী, একইসঙ্গে কলমও চালান তিনি। এবারেও বইমেলায় ৭টি নতুন বই লিখেছেন মমতা। এদিন সেই সব বইয়েরও আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল। আর মমতাও বললেন, ‘‌আমার প্রকাশকরাই জানাচ্ছেন, ৮০টি বই লিখে ফেলেছি আমি। এখন মোট ৮৭টা হল। তাহলে বাকি ১৩টিও চটপট লিখে ফেলব যাতে আগামী বছর ১০০ পূরণ করা যায়।’‌
মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এদিন যে ৭টি বই প্রকাশিত হল, তার নাম— ‘‌বিপন্ন ভারত’‌, উর্দু শায়েরি ‘‌ইনসাফ’‌, ইংরেজিতে ‘‌মাইসেল্ফ’‌, ছোটদের জন্য ‘‌শিশুদোলা’‌, ‘‌আলোকবর্তিকা’‌ ও ‘‌নামাঞ্জলি সমগ্র’‌। আর একটি কবিতার বই ‘‌আমি’‌। মুখ্যমন্ত্রী এদিন গিল্ডের একটি ডাইরেক্টরি ও ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন। সেই ক্যালেন্ডারের ছবিগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা। ভাষণ দিতে গিয়ে কিছুটা কটাক্ষের সুরে বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌এই ছবিগুলি কোনওটিই তুলিতে আঁকা নয়। রঙের টিউব থেকে সরাসরি আঁকা। কী জানি কবে আবার বলে বসবে, কত টাকা নিয়েছি।’‌ এরপরই মমতার মন্তব্য, ‘‌আমি ৭ বার সাংসদ ছিলাম। এখন বিধায়ক, মুখ্যমন্ত্রী। ভাতা নিলে অনেক টাকা রোজগার করতাম। কিন্তু, কিছু্ই আমি নিই না। বইমেলায় আমারও লাভ হয়। সময় পাই না, তবু এরই মধ্যে লেখালিখি করি। আমার বই এবং ছবির রয়্যালটি থেকেই আমার রোজগার।’‌ বইমেলা নিয়ে তাঁর ভাবনা জানাতে গিয়ে মমতা এদিন বলেছেন, ‘‌জলের নাম যেমন জীবন, তেমনই বইও একটা জীবন। আজকের দিনে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটে অনেকে গল্প, কবিতা, সাহিত্যচর্চা করছেন। মতামত লেখেন। কিন্তু দেখুন, আজও যখন জীবন শুরু হয়, বই লাগবেই। বিশ্ব বাংলার বিশ্বসেরা হল কলকাতা বইমেলা। গতবছর ২‌২ লক্ষ মানুষ এসেছে এই মেলাতে। বাংলা নিয়ে আমাদের যে যা–‌ই বলুক, হিংসুটেরা অনেক কথা বলবে, তাতে কী যায় আসে?‌’‌‌
মমতা বলেন, ‘‌বাংলার সব উৎসবই সেরা। বলুন তো, দুর্গাপুজোর সঙ্গে কোনও তুলনা হয়?‌ বড়দিন, পিঠেপার্বণ, খেলার উৎসব, লক্ষ্মী, সরস্বতী বাংলার ঘরে ঘরে হয়।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌উৎসবের মাধ্যমে বাংলায় প্রাণের স্পন্দন জাগরিত হয়। আলোড়িত করে মনকে। হৃদয়কে জাগিয়ে স্বপ্নের ঘোর নিয়ে আসে। বই না থাকলে সভ্য হতাম কী করে?‌ এর মাধ্যমেই সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। মনীষীদের কথা জানতে পারি। বইয়ের বিকল্প নেই।’‌‌

 

এবার মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সাত বই। বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিজের বই প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার, সেন্ট্রাল পার্কে। ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top