TMC: ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভের মুখে প্রতিমন্ত্রী! মাথা ফাটল তৃণমূল কর্মীর 

আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার প্রতাপগঞ্জে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।

মন্ত্রীর সামনেই তৃণমূল কর্মী এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একে অপরকে লক্ষ্য করে চলতে থাকে ইট-পাথর। এই ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মীর মাথা ফেটে যায়। তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। 
গত কয়েকদিন ধরে সামশেরগঞ্জ থানার প্রতাপগঞ্জ ও শিবপুর এলাকায় নতুন করে শুরু হয়েছে গঙ্গানদীর ভাঙন। শনিবার সকালে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম এবং কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান সাবিনা ইয়াসমিন। 
মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে এলাকাতে গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা দাবি করেন, বালির বস্তার পরিবর্তে বোল্ডার এবং পাথর ফেলে এলাকাতে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করতে হবে।
অভিযোগ, এই বিক্ষোভে কিছু তৃণমূল কর্মী বাধা দিতে গেলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। গ্রামবাসী এবং তৃণমূল কর্মীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে পুলিশের সামনেই ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এই ঘটনাতে কাঁকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জনৈক নাসির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীর মাথা ফেটে যায়। যদিও পরে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'সামশেরগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় এবং ধুলিয়ান পুর এলাকাতে ভাঙন প্রতিবছরের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এত বড় জাতীয় বিপর্যয় দেখেও চুপ করে বসে রয়েছে। আজ পর্যন্ত তারা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করেনি।' 
তিনি আরও বলেন, 'ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন অংশে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছে। এই মুহূর্তে সামশেরগঞ্জের ১২-১৩টি ভাঙন প্রবণ জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা তৎপরতার সঙ্গে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছি। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য নতুন করে প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।' 
সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, 'আজ পরিকল্পিতভাবে এলাকার সিপিআই(এম) কর্মীরা ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।'
যদিও এই ঘটনার সঙ্গে সিপিআই(এম) কর্মীদের কোনও যোগাযোগ রয়েছে বলে মানতে রাজি হননি সিপিআই(এম)-এর ধুলিয়ান এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোদাসসর হোসেন। তিনি বলেন, 'এই ঘটনা আসলে এলাকার গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। এর সঙ্গে আমাদের দলের কর্মীদের কোনও যোগাযোগ নেই।'
 

আকর্ষণীয় খবর