আজকালের প্রতিবেদন: তিনি মেয়র। একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মেয়রের চেয়ারে বসে শোভন চ্যাটার্জি জানিয়ে দিলেন, পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে গত দু’‌দিনে কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে। শোভন স্পষ্ট জানালেন, তাঁকে মমতাদি কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। মমতাদি বলেছেন, তোমার দায়িত্ব আছে। তোমার কাজ নির্দিষ্টভাবে করো। সংবাদমাধ্যমে যা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই। তাঁর সঙ্গে বৈশাখীর বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। তিনি আমার কাছ থেকে কোনও কিছু জানতে চাননি। স্ত্রী রত্নার সঙ্গে শোভনের বিবাহ–বিচ্ছেদ মামলা চলছে। আর ঠিক এই সময় শোভনকে জড়িয়ে কলেজশিক্ষিকা ও ওয়েবকুটা–র প্রাক্তন সদস্য বৈশাখী ব্যানার্জিকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। বেহালার পর্ণশ্রীর বাড়ি ছেড়ে শোভন গোলপার্কে একটি বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। বৈশাখী–শোভনকে নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলে। কলকাতা পুরসভায় মেয়রের চেয়ারে বসে শোভন অকপটে বলেন, পারিবারিক বন্ধু হিসেবে বৈশাখী বিপদের সময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটা আমি ভুলতে পারব না। আমি অকৃতজ্ঞ নই। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে শোভনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনাদের সম্পর্কের জেরেই কি ওয়েবকুটা থেকে বৈশাখীকে সরিয়ে দেওয়া হল?‌ শোভন বলেন, যাঁরা সরিয়েছেন তাঁদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। বৈশাখী আমার বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওঁর বিপদের সময় আমি দাঁড়াব। ওঁর ওপর আঘাত আসার আগে আমার ওপর আসতে হবে। আমি এই আঘাত বুক পেতে নেব। শোভন বলেন, মমতাদি আমাকে কোনও ব্যাপারে সতর্ক করেননি। আমি যখন বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি, সেই সময় অসম্ভব মনের জোর নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন বৈশাখী। তিনি না থাকলে আমার অস্তিত্বের সঙ্কট হত। সরাসরি অভিযোগ করে মেয়র বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি যাতে ইস্তফা দিই, সে চেষ্টাও করা হয়েছে। পরিকল্পনা করে এই কাজ করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে কয়েকবারই তিনি বলে দেন, পদত্যাগের প্রশ্ন নেই। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, দলের সঙ্গে কি আপনার দূরত্ব বেড়েছে?‌ বৈশাখীর বিষয়টি দল কি মেনে নিচ্ছে না?‌ শোভনের স্পষ্ট জবাব, একটা চক্র কাজ করছে। দলের সঙ্গে আমার দূরত্ব বেড়েছে কি না, তার জবাব দিতে পারবে ওই চক্র।বৈশাখীকে নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে, এ সব আমার কানে আসেনি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় শোভন এদিন অসম্ভব ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঠান্ডা মাথায়। কখনও হেসেছেন, আবার কখনও রসিকতাও করেছেন। একবারের জন্যেও তাঁকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। গোটা পুরসভায় এদিন কৌতূহল ছিল মেয়রকে ঘিরে। কোনও বোমা তিনি ফাটাননি। অকপটে তিনি সব কথা জানিয়েছেন। মেয়রকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার স্ত্রী রত্না আপনার সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন, গোলপার্কের বাড়িতে আপনি অতিথি হিসেবে আছেন। মেয়র বলেন, গোলপার্কের বাড়িতে থাকার অধিকার আমার আছে (‌রেসিডেন্সিয়াল রাইট)‌। আমার সম্পর্কে অভিযোগ করার আগে আয়নার সামনে অভিযোগ করলে ঘোড়াও হাসবে। রত্নার সঙ্গে কোন কারণে বিচ্ছেদ চেয়েছেন তিনি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শোভন। ১৯৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর শোভন–রত্নার বিয়ে হয়। মেয়র বলেছেন, বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখা দিয়েছিল। আমি দেখেছি, আমার দ্বারা এই পরিবার আর চালানো যাবে না। বেহালার পর্ণশ্রীতে আর ফিরছি না। যদিও ওটাই আমার পৈতৃক বাড়ি। কিছু জিনিসপত্র রয়ে গেছে। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মেয়র বলেন, আমি পরিবারের প্রতি সচেতন। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যা গেছে, অতি বড় শত্রুরও যেন না হয়। বিজেপি–র সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে শোভন বলেন, ৩৫ বছর ধরে আমি জনপ্রতিনিধি। বিজেপি–কে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কী করে?
পাশাপাশি এদিন রত্না একটি টিভি চ্যানেলে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রত্না বলেছেন, আমি পারিবারিক জীবনে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি। ও নিজেই শান্তি বিঘ্নিত করছে। আমি মনে করি, ওর শুভবুদ্ধি হবে। আমি জোর করে গোলপার্কের বাড়ি থেকে ওকে বের করতে যাব কেন?‌ ওটা আমার ভাইয়ের বাড়ি। ও লিখিয়ে নিয়েছে। ২২ বছর ঘর করার পর কী এমন কারণ হল, যাতে ডিভোর্স ও চাইল?‌ আমি চাই, ভাল দিন ফিরে আসুক। পর্ণশ্রীর বাড়িতে ও ফিরে আসতেই পারে। শোভন সম্পর্কে রত্না বলেন, ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ও কাউন্সিলর হয়েছে। নানারকম কাজের জন্য লোকজন ওর খোঁজ করেন। বাড়ি ছেড়ে কেন চলে গেলেন?‌ রত্নার বক্তব্য, ভীষণ কাজের মানুষ ও। যোগ্যতা না থাকলে এতদূর পৌঁছতে পারত না। এলাকার মানুষের জন্য ওর বাড়িতে ফিরে আসা উচিত।

জনপ্রিয়

Back To Top