আজকালের প্রতিবেদন: গুজরাটের পাতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেলকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন হার্দিক। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌হার্দিক আমার ছোট ভাইয়ের মতো। যথেষ্ট সমঝদার। ওঁকে বলেছি রাজনীতিতে যোগ দিতে। গুজরাটে হার্দিক যে লড়াই চালাচ্ছেন, তাতে ওঁর কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। একমাত্র রাজনীতিতে যোগ দিলেই এই প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।’ হার্দিক বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীকে ‘‌লেডি গান্ধী’র মতো মনে হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধীকে আমি দেখিনি। কিন্তু ‘‌মমতাদিদি’‌ তঁার মতোই সাধারণ জীবন যাপন করেন। তিনি আমাকে বলেছেন, যখনই আমি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করব, তখনই আমার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের দরজা খোলা থাকবে। তিনি আমাকে বলেছেন, গুজরাটে তৃণমূল দলকে তুমিই তৈরি করো। আমিও দিদিকে গুজরাটে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গুজরাটে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের জোটবদ্ধ করতে দিদিকে পাশে চাই। তিনি আসবেনও বলেছেন।  কিন্তু আমি এখনও রাজনীতিতে যাওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি একজন আন্দোলনকারী। ‌তবে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে এ রাজ্যে প্রচারে আসতে চাই। একটা শক্তি দেশকে টুকরো টুকরো করে দিতে চায়। তার বিরুদ্ধে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সবাই মিলে সুন্দর ভারত তৈরি করতে হবে। এ রাজ্যের কুর্মি এবং গুজরাটের প্যাটেল সম্প্রদায় একই। দিদি কুর্মিদের  ওবিসি থেকে তফসিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বারবার কেন্দ্রের কাছে চিঠি লিখেছেন। আমি কুর্মিদের জন্য এই লড়াইয়ে তঁার পাশে থাকতে চাই।’‌ এদিন হার্দিক বলেন, তিনি এখন দিদির আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। যদি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত তিনি নেন, তবে সেদিন তিনি অবশ্যই দিদির আশীর্বাদ নেবেন। 
হার্দিক বলেন, ইন্দিরা গান্ধীর পর ‘‌মমতাদিদি’‌কেই‌ একমাত্র তিনি দেখলেন, যিনি এত লড়াই করে ক্ষমতার শীর্ষে এসেছেন। মমতা ব্যানার্জি হার্দিককে কলেজ জীবন থেকে তঁার লড়াইয়ের ইতিহাস শুনিয়েছেন। হার্দিক মনে করেন, মমতা ব্যানার্জি একজন জনপ্রিয় নেত্রী। হার্দিকের ব্যক্তিগত মত, দেশের সমস্ত বিরোধী দলের একজোট হয়ে দিদির নেতৃত্বেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। এদিন হার্দিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাকে সবদিক দিয়েই কীভাবে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন, সে কথা শুনিয়েছেন। শুধু তা–ই নয়, গুজরাটে যখন ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী ছিলেন। সে–সময় গুজরাটের পাশে দঁাড়ানোর জন্য হার্দিক ‘‌মমতাদিদি’‌কে‌ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের শহরে আসতে পেরে হার্দিক আপ্লুত। তিনি বিভিন্ন বিরোধী দলের কাছ থেকে কলকাতা সম্পর্কে অনেক বিরূপ মন্তব্য শুনেছেন। কিন্তু নিজে এসে তিনি দেখলেন, কলকাতা শহর যেমন অসাধারণ তেমনি এখানকার মানুষও অসাধারণ।

 

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে হার্দিক প্যাটেল। শুক্রবার। ছবি: অমিত ধর

জনপ্রিয়

Back To Top