সব্যসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি, ২১ অক্টোবর- বিদ্রুপের জবাবে মমতার হাতিয়ার নোবেল। শিলিগুড়িতে পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে বাংলা ও বাঙালির নোবেল জয়কে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কখনও কখনও কেউ বিদ্রুপ করে বলে, বাংলায় নাকি আর বিজ্ঞানী হয় না, আর যেই না বলা, তিন দিন বাদেই দেখলেন নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেল বাংলা।’ এরপরই ছড়া কেটে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‌এত নোবেল কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সে যে সকল দেশের রানি সে যে আমার বঙ্গভূমি, সে যে মোদের বাংলাভূমি।’ সম্প্রতি অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি ও তঁার স্ত্রী এস্থার দুফলো। এনিয়ে আগেই তাঁর মুগ্ধতা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে অভিজিতের মায়ের সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন। এদিন প্রকাশ্য সভাতেও তঁার উচ্ছ্বাস গোপন রাখেননি তিনি। অভিজিৎ ও তঁার স্ত্রী–র নোবেল জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলা বিরোধী প্রচারের মুখ ভোঁতা করে দিয়েছেন। পরিষ্কার করে দিলেন, শত অপপ্রচার সত্ত্বেও বাংলা এগিয়ে চলেছে। এদিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে সারা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলা যে এগিয়ে, তথ্য দিয়ে‌‌‌ তা তুলে ধরেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। অমিত বলেন, ‘‌ভারতবর্ষের অর্থনীতি নিম্নগামী, যেখানে ৮ শতাংশ হারে বাড়ছিল অর্থনীতি, সেখানে নোটবন্দি, জিএসটি করে ৬ শতাংেশ নেমে এসেছে, যা খুবই দুঃখের বিষয়। সারা পৃথিবীতে এনিয়ে কথা হচ্ছে।’‌ এরপরই অমিত মিত্র জানান, কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলার অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে জিডিপি ১২.‌৫৮ শতাংশ  হারে বাড়ছে। এটিকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে ‘‌বিজয়ার উপহার’ বলে ব্যাখ্যা করেন অমিত। অর্থমন্ত্রী জানান, শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের শিল্প মহলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এর আগে উত্তরবঙ্গে অনুষ্ঠিত শিল্প সম্মেলনেও তিনি এসেছেন। 
মুখ্যমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে এই তথ্য জানানোর নির্দেশ দিলেও নিজে তঁার ভাষণে এনিয়ে কিছু বলেননি। বরং তিনি বাংলার অগ্রগতির প্রশ্নেই তিনি বলেন, ‘‌সারা ভারতবর্ষে ৪০ শতাংশ বেকারি বেড়েছে, অথচ বাংলাই একমাত্র জায়গা যেখানে ৪০ শতাংশ বেকারি আমরা কমিয়ে দিয়েছি।’‌ মুখ্যমন্ত্রী জানান, আরও কাজ করে, আরও উদ্যোগী হয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে। যাতে সবাই গর্ব করে বলতে পারে এটা আমার গর্বের বাংলা। বাংলা একদিন বিশ্বসেরা হবে এটাই তঁার স্বপ্ন বলে জানান তিনি।‌ এদিকে, মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে যাবেন কার্শিয়াং। ২৩ অক্টোবর কার্শিয়াঙে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।‌

 

শিলিগুড়ির বিশ্ব বাংলা হাটে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top