আজকালের প্রতিবেদন- কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে বাংলায় সরকার ভাঙার চক্রান্ত করছে বিজেপি। সোমবার এই গুরুতর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছেন, ‘‌কেন্দ্রীয় নেতাদের উসকানি চলছে। দার্জিলিং, জঙ্গলমহল আবার অশান্ত করতে চাইছে বিজেপি। এটা সম্পূর্ণ গেমপ্ল্যান ওদের। সরকার ভাঙার চ্ক্রান্ত। কিন্তু এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে মাথা নত করবে না বাংলা।’‌ মমতা এদিন আরও বলেছেন, ‘আর ‌বিজেপি যদি আমার সরকার ভাঙার চক্রান্ত করে, তাহলে মনে রাখবেন মৃত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর। বাংলা মায়ের সম্মান নিয়ে খেললে বরদাস্ত করব না।’‌
এদিন নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের কাজকর্মের খতিয়ান নিয়ে প্রশাসনের পদস্থদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কোনও মিল থাকে না। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নির্বাচিত সরকার। এখনও ২ বছর পর ভোট। এখনই যদি আমাকে স্তব্ধ করার চক্রান্ত করে, তা মেনে নেব না। ইভিএম প্রোগ্রামিং করা হয়েছে। এই খেলা যাতে আমি বের করতে না পারি তাই আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করার পরিকল্পনা করছে।’‌ মমতার মতে, ২০০৯–এর সঙ্গে এই লোকসভা নির্বাচনের তুলনা করা হচ্ছে। কিন্তু তা ভুল। মমতা বলেন, ‘‌আমরা ২০০৯–এ ২৬টি আসন পেয়েও কারও ওপর কোনও অত্যাচার করিনি। আর তখন সিঙ্গুর, নেতাই, নন্দীগ্রামের মতো আন্দোলন ছিল। এখন কী আছে?‌ কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজেপি বাংলায় দাঙ্গা লাগাতে চাইছে। দাঙ্গা হলে কেন্দ্রীয় সরকার দায় এড়াতে পারবে না। বাংলা কখনওই গুজরাট হবে না। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। এমনভাবে ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছে যেন আমাদের রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা খুব খারাপ। সবাইকে হাতে স্টেনগান নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে।’‌
মমতার অভিযোগ, বিজেপি–‌র জন্যই পশ্চিমবঙ্গে কিছু জায়গায় নির্বাচন পরবর্তী হিংসা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ জন মারা গেছেন। যদিও বিজেপি–‌র অভিযোগ, ৫ জন নিহত হয়েছে। এর জেরে মমতার বক্তব্য:‌ ‘‌শুধু মিথ্যে কথা বলে। অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন বলা হচ্ছে, কিন্তু তার কোনও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারছে না। ওরা নিজেরাই গুন্ডামি করছে। পুলিশকে পর্যন্ত মারধর করছে। এই রাজনীতি বাংলায় চলবে না। বাংলা শান্তিতে আছে। বিজেপি–‌র কেন্দ্রীয় নেতাদের উসকানিতেই বাংলায় অশান্তি হচ্ছে। তার পরও কেন্দ্র বড় বড় কথা বলছে।’
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেনও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব মলয় দে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে পুলিশ কর্তাদের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, জেলা স্তরের পুলিশ প্রশাসন তাঁদের কথা শুনছে না।  এফআইআর নেয় না। মমতা তা শুনে ডিজি বীরেন্দ্রকে  বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন। কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‌কয়েকটা জেলা থেকে আমি খবর পেয়েছি, আইসি–ওসিরা ঠিকমতো কাজ করছেন না। যাঁরা এসব করছেনস তাঁদের ওপর আমি নজর রাখছি। তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌ সূত্রের খবর, প্রশাসনিক বৈঠকে ডিজি–‌কে নমনীয়তা ছেড়ে পরিস্থিতি শক্ত হাতে সামলাতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। থানায় যে সব অভিযোগ জমা পড়ছে তা সঠিকভাবে তদন্ত হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব গৌতম সান্যালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে পাহাড় আর জঙ্গলমহলকে অশান্ত করার চক্রান্ত শুরু করেছে। দার্জিলিং পুরসভার কাউন্সিলরদের যেভাবে নেপালে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাঁদের যেভাবে সরাসরি দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। তিনি বলেন, এটা রাজনীতি নয়। বিজেপি আগুন নিয়ে খেলছে। বিজেপি টাকা দিয়ে যা খুশি করতে চাইছে। 

 

কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভির দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিজেপি এই লোকসভা নির্বাচনে ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। একেকটা কেন্দ্রের জন্য ৪৫ কোটি টাকা। এত টাকা কোথা থেকে পেল, এটাই তো তদন্ত করে দেখা উচিত।’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সব সরকারি তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কিনে নিয়েছে। যারা বিজেপি–‌র কথা শোনে না, তাদেরই সিবিআই, ইডি দিয়ে ভয় দেখায়। তাঁর প্রশ্ন, ‘অনেক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও সিবিআই তদন্ত চলছে। তাহলে অন্যকে ভয় দেখায় কী করে ওরা?‌ বিজেপি সবসময় তৃণমূলের বদনাম করার চেষ্টা করছে।’‌ কেন্দ্রের অসহযোগিতার উদাহরণ দিয়ে মমতা আরও জানান, গত ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ রাজ্যকে প্রয়োজনীয় কয়লা দিচ্ছে না কেন্দ্র। লোডশেডিং হলে বদনাম করতে সুবিধে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমি জানতাম না যে ওরা কয়লা দিচ্ছে না। ওরা নীতি আয়োগের বৈঠকে যেতে বলছে। কিন্তু এই রাজ্যকে সাহায্য করার কোনও ক্ষমতাই এই সংস্থার নেই। শুধু শুধু এই বৈঠকে ভাষণ শুনে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। রাজ্যর স্বার্থে আলোচনা হলে  কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভির দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিজেপি এই লোকসভা নির্বাচনে ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। একেকটা কেন্দ্রের জন্য ৪৫ কোটি টাকা। এত টাকা কোথা থেকে পেল, এটাই তো তদন্ত করে দেখা উচিত।’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সব সরকারি তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কিনে নিয়েছে। যারা বিজেপি–‌র কথা শোনে না, তাদেরই সিবিআই, ইডি দিয়ে ভয় দেখায়। তাঁর প্রশ্ন, ‘অনেক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও সিবিআই তদন্ত চলছে। তাহলে অন্যকে ভয় দেখায় কী করে ওরা?‌ বিজেপি সবসময় তৃণমূলের বদনাম করার চেষ্টা করছে।’‌ কেন্দ্রের অসহযোগিতার উদাহরণ দিয়ে মমতা আরও জানান, গত ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ রাজ্যকে প্রয়োজনীয় কয়লা দিচ্ছে না কেন্দ্র। লোডশেডিং হলে বদনাম করতে সুবিধে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমি জানতাম না যে ওরা কয়লা দিচ্ছে না। ওরা নীতি আয়োগের বৈঠকে যেতে বলছে। কিন্তু এই রাজ্যকে সাহায্য করার কোনও ক্ষমতাই এই সংস্থার নেই। শুধু শুধু এই বৈঠকে ভাষণ শুনে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। রাজ্যর স্বার্থে আলোচনা হলে আমরা যেতাম। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্ঘাতে যাচ্ছি বলে প্রচার করবে।’‌ 
জঙ্গলমহলের পাঁচটা জেলায় কেন্দ্রীয় সরকার তাদের আধিকারিককে বসাতে চায় বলেও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পেছনেও তিনি চক্রান্তেরই আভাস পাচ্ছেন।‌

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top