আজকালের প্রতিবেদন- গোটা দেশের সঙ্গে বাংলায় ৭ দফা নির্বাচনে তাঁর সুবিধা হবে বলেই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নির্বাচন কমিশনকে সম্মান জানিয়েই সোমবার নবান্নে মমতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিজেপি গেমপ্ল্যান করতেই ‌৭ দফা নির্বাচন করেছে। যাই হোক, এতে আমার সুবিধে হয়েছে। আমি খুব খুশি। হেসেখেলে নির্বাচন করে দেব। বিজেপি গেমপ্ল্যান করে বাংলায় কোনও সুবিধে করতে পারবে না। এটা ওদের ব্যুমেরাং হবে। ৪২টি আসনেই তৃণমূল জিতবে। ওরা সব নিজেদের প্রচার করার সুবিধের জন্যই ৭ দফায় নির্বাচন করেছে।’
রবিবারই দেশ জুড়ে ৭ দফায় নির্বাচনী নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বাংলায় এই প্রথম ৭ দফায় লোকসভা ভোট হচ্ছে। ২০১৪ সালে ভোট হয়েছিল ৫ দফায়। কমিশনের ঘোষণার পরেই তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের কথায় স্পষ্ট হয়েছিল যে, বিষয়টিতে তাঁরা ক্ষুন্ন। কিন্তু মমতা সেদিন কিছু বলেননি। এদিন কিন্তু তিনি সটান জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই বাংলার ভোটে এই দীর্ঘ নির্ঘন্টের পেছনে বিজেপি–র ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে। মমতার বক্তব্য, ‘‌বিজেপি আরও একটা স্ট্রাইক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই এ খবর পাওয়া গেছে। কারণ, সাংবাদিকরা সকলের সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক রেখে খবর বের করেন। ১৯ মে পর্যন্ত এই স্ট্রাইকের ছাপ ওরা চালিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এটাই ওদের গেমপ্ল্যান। এর বেশি কিছু আমি বলব না।’‌ ‌
মমতা আরও বলেন, ‘২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কোনও ভাবনাচিন্তা না করেই ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের ডাক দিয়েছিলাম। ওরা নানা প্ল্যান করে ১৯ মে শেষদফায় বাংলায় ভোট করছে। এর পেছনে নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্র রয়েছে।’‌
প্রসঙ্গত, বুধবার নয়, আজ, মঙ্গলবারই কালীঘাটে দলের নির্বাচন কমিটির বৈঠকের পরেই তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে দেবেন মমতা। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‌মা–‌মাটি–‌মানুষের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা নিয়ে মঙ্গলবার প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে দেব। আপনারা তো জানেন— মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা।’ 
রবিবারই ফিরহাদ জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন মমতা। মনে করা হচ্ছিল, তার পরদিন, অর্থাৎ বুধবার দলনেত্রী তৃণমূলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন। কিন্তু এদিন মমতা জানিয়েছেন, বুধ নয়, মঙ্গলবারেই ঘোষিত হবে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীদের নাম। 
এদিন বিজেপি–কে প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণ করে মমতা বলেছেন, ‘‌বাংলায় ফের ওরা অশান্তি পাকাতে চাইছে। বাংলাকে ওরা প্রতিনিয়ত অসম্মান করে। ওরা ভাবে, বাংলার মানুষ ঘাসে মুখ দিয়ে চলে। কিছু বোঝে না। আগের নির্বাচনে ওরা বিশৃঙ্খলা, অশান্তি করেছিল। সুবিধে করতে পারেনি সাধারণ মানুষের জন্য। এবারও বিজেপি–কে সেই জনগণই ভালভাবে বুঝিয়ে দেবে। আগামিদিনে বাংলাই দেশের চালিকাশক্তি হবে।’‌ 
তবে ষড়যন্ত্রের কথা বললেও তিনি যে ৭ দফা নির্বাচনে নিজের সুবিধাই দেখছেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন নরেন্দ্রো মোদির বিরোধী জোটের মুখ মমতা। তাঁর কথায়, ‘‌এটা আমার পক্ষে ভাল হয়েছে। বাংলায় নির্বাচনের মাঝে আমি বাইরের রাজ্যে গিয়েও প্রচার করতে পারব। তবে ঝড়বৃষ্টি আর গরম থাকবে। শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে যাঁরা নির্বাচন করেন, তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু অনেকের হিটস্ট্রোক হয়ে যায়। এসব ওরা মাথায় রাখেনি।’ মমতার আরও কটাজ্ঞ— ‘বৃহস্পতিবার নির্বাচন শুরু। গণনাও বৃহস্পতিবার। মনে হয়, তিথিনক্ষত্র মেনেই বিজেপি এসব করেছে। উত্তরপ্রদেশে ৮০, বিহারে ৪০ আর বাংলায় ৪২ আসনে ভোট হবে ৭ দফায়। ভোটের পর কিন্তু এই ৩ রাজ্যই কেন্দ্রে সরকার গড়ার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।’‌
দলের হয়ে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, কারা বাদ যাচ্ছেন, তা মমতা ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও প্রার্থিতালিকা নিয়ে দলের অন্দরে এবং জনতার মধ্যে কৌতূহল চরমে। এর মধ্যেই এদিন নবান্নে গিয়ে মমতার সঙ্গে দেখা করেন দীনেশ ত্রিবেদী এবং ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং। অর্জুনের ইচ্ছে ছিল দীনেশের পরিবর্তে এবার ব্যারাকপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার। দু’‌জনের সঙ্গে এদিন সে বিষয়ে কথা বলেন মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, ব্যারাকপুরের প্রার্থী নিয়ে সমস্যা হবে না। মনোনয়ন পাবেন দীনেশ। অর্জুন দলের হয়েই কাজ করবেন। 
এদিন মমতার সঙ্গে দেখা করেন সন্ধ্যা রায়, অপরূপা পোদ্দার, উমা সোরেন এবং সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। ইমনকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বলা হচ্ছে, তিনি ব্যক্তিগত কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। 
মমতা কোন জেলা থেকে প্রচার শুরু করবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কর্মসূচির তালিকা তৈরি হচ্ছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতিরাও মঙ্গলবারের বৈঠকে থাকবেন। প্রচার নিয়ে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁরা জেনে যাবেন, তাঁদের জেলায় কারা প্রার্থী। এতদিন পরীক্ষা থাকায় প্রকাশ্যে প্রচার করা যায়নি। দল থেকে বলা হয়েছে— বিজেপি মূল শত্রু। মোদিকে হটানোর কথা মাথায় রেখেই প্রচারে নামতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে প্রার্থীকে যেতে হবে। অভাব–অভিযোগ শুনতে হবে। উন্নয়নের সাফল্যের কথা বলতে হবে। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যশ্রী, সবুজ সাথী প্রকল্পগুলির কথা প্রথমে বলতে হবে। এ–ও বলতে হবে যে, ‘‌আপনাদের পাশে মমতা আছেন। কোনও ভয় পাবেন না। শান্তিতে ভোট দেবেন।’‌ 

 

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top