‌আজকালের প্রতিবেদন: লোকসভা নির্বাচনের আগে আজ, সোমবার তৃণমূলের কোর কমিটির শেষ বৈঠক। প্রত্যাশিতভাবেই সেখানে প্রধান বক্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মূলত নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক। 
নজরুল মঞ্চে ওই বৈঠক শেষ করে সোমবারই মমতা দিল্লি যাচ্ছেন। বুধবার ২৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে মহাজোটের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ২৩টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। মোদি–বিরোধী জোটের প্রধান মুখ মমতাই। তাঁরই নেতৃত্বে ওই বৈঠকে জোটের ‘অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি’ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে যখন মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি গিয়েছিলেন, তখনই তিনি বলে এসেছিলেন, ‘‌বিরোধী জোট অটুট আছে। বিজেপি–কে পরাজিত করতে জোট ঐক্যবদ্ধ। কয়েক দিনের মধ্যেই জোটের অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি ঠিক হবে।’‌ সেই লক্ষ্যেই বুধবারের বৈঠক। 
মহাজোটের বৈঠকের পর মমতার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলবেন চন্দ্রবাবু নাইডু, শারদ পাওয়ার, রাহুল গান্ধী, ফারুক আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব, অখিলেশ যাদব প্রমুখ। 
ঘটনাচক্রে, এরই মধ্যে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আত্মঘাতী জৈশ জঙ্গির হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০ জন জওয়ান। গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। কেন ওই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে মমতাই সকলের আগে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তাঁর সরাসরি বক্তব্য ছিল, জওয়ানদের কনভয়ে জঙ্গি হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?‌ মহাজোটের বৈঠকে পুলওয়ামা হামলার বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, নজরুল মঞ্চে রবিবার থেকেই কোর কমিটি বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে বেশ কিছু জেলার প্রতিনিধি কলকাতায় চলে এসেছেন। বৈঠকে থাকবেন তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সভাধিপতি–সহ দলের পদাধিকারীরা। নজরুল মঞ্চে প্রায় ৩,০০০ আসন। দলের নেতারা মনে করছেন, মঞ্চ ভরে যাবে। বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। 
সম্প্রতি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুন হয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। আলোচনা হতে পারে তা নিয়েও। এদিন দলের এক নেতা জানান, ‘তৃণমূল সারা বছর সংগঠনের কাজ করে। তাই নির্বাচনের ঠিক আগে থেকেই আমাদের কাজ শুরু করতে হয় না। নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেইমতো আমাদের চলতে হবে। এবার নির্বাচনে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। গুজব ছড়িয়ে বিজেপি পরিস্থিতি ঘোরালো করতে চাইছে। প্রশাসন থেকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবেও দল আরও সতর্ক হচ্ছে।’
লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের জেতাতে বিধায়ক, জেলা পরিষদ, কাউন্সিলর, শাখা সংগঠনের প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। দলের নেতাদের মতে, ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে নামতে হবে। ইতস্তত দলীয় মতপার্থক্য থাকলেও তা দূরে সরিয়ে রেখে ৪২টি আসনেই জেতার শপথ নিতে হবে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‌আমরা আগেই এই শপথ নিয়েছি। এখন আমাদের মাঠে নেমে সেই লড়াইটা করতে হবে। বিজেপি এই নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাবে। প্রচুর টাকা ছড়াবে। কুৎসা এবং অপপ্রচার করবে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই দলের নেতা–কর্মীদের কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না। ঠান্ডা মাথায় নির্বাচনের কাজ করতে হবে।’‌
কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বক্তৃতা করার আগে ভাষণ দেওয়ার কথা রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক ব্যানার্জি প্রমুখের।‌                                    

 

(ফাইল ছবি)

জনপ্রিয়

Back To Top