আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এককালীন ভাতা বাড়ানো হল যাত্রা শিল্পীদের। এবার থেকে ৯ হাজার টাকা নয়, এককালীন ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন যাত্রাশিল্পীরা। শুক্রবার বারাসতে ২৩তম যাত্রা উৎসবের সূচনায় এসে একথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বলেন, ‘‌যাত্রা শিল্পীরা সসম্মানে বাঁচুক। তাই এই পদক্ষেপ।’  প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ঘণ্টা বাজিয়ে পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা অ্যাকাডেমি, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে হওয়া বারাসতের কাছারি মাঠে এই যাত্রা–উৎসবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দু’‌দিন বারাসত কাছারি মাঠে বেশ কয়েকটি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে। তারপর কলকাতার বাগবাজারে ফণিভূষণ বিদ্যাবিনোদ যাত্রামঞ্চে এক মাস ব্যাপী চলবে যাত্রা–উৎসব। এদিকে, যাত্রা উৎসবের সূচনার পরই ওই মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘‌রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজ করছে। আর কেন্দ্র বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়ে জানাচ্ছে, ওই কাজ কেন্দ্রের টাকায় হচ্ছে। যার পুরোটাই মিথ্যে। ‌কৃষকদের ফসলবীমা থেকে শুরু করে বছরে দু’‌বার একর প্রতি পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের কোনও হাত নেই। এমনকি রাজ্য সরকারই জনগণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে। তাও কেন্দ্র সেই কাজের স্বীকৃতি নিচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র নেই। মা–বোনেরা সুরক্ষিত নয়। কে কী খাবে?‌ কে কোথায় যাবে?‌ তা কেন্দ্র ঠিক করে দিতে পারে না। দেশকে ভেঙে ফেলার চক্রান্ত চলছে।’ এরপরই পুজো কমিটিগুলিকে আয়করের তলব নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌পুজো কমিটিগুলিকে বলা হচ্ছে আয়কর দিতে হবে। কেউ কী আয় করার জন্য পুজো করে?‌ এরপর কী তিরুপতি–জগন্নাথ মন্দির–সহ দেশের অন্যান্য মন্দিরগুলিকেও কী কর দিতে হবে?‌ হয়ত পুজো করার জন্যও কর চাইবে কেন্দ্র। পরে আবার নিয়ম আনবে বাড়িতে রান্না করতে গেলে কিংবা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে গেলেও আয়কর দিতে হবে। আমি পুজো কমিটিকে বলছি, ডাকলে তাঁরা যেন না যায়, যা বলার আমি বলে দেব। একটি ক্লাবের গায়ে হাত পড়লেও আমরা ছেড়ে কথা বলব না। এর আগে বামেরা বাংলাকে জ্বালিয়েছে আর এখন জুটেছে নাটুকে রাম। আমাদের এই সরকারের সময়ে গত সাড়ে সাত বছরে রাজ্যের প্রভূত উন্নতি হয়েছে।’ এরপর কেন্দ্রের নয়া সংরক্ষণ বিল নিয়ে মমতা বলেন, ‘‌কোন গরিব মানুষের আয় বছরে আট লক্ষ টাকা?‌ মোদি জমানায় ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছেন। একে চাকরি নেই, তার উপর আবার সংরক্ষণ।’ এরপর এদিনই মুক্তিপ্রাপ্ত  ‘‌দ্য ‌অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ সিনেমাটি নিয়েও। বলেন, ‘‌কংগ্রেসের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য রয়েছে। কংগ্রেস ত্যাগ করেই তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলাম। কিন্তু যেভাবে একটি সিনেমার মাধ্যমে রাজনীতি চলছে কিংবা সত্যকে বিকৃত করা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে আমি একমত নই। যাঁরা এখন এটা নিয়ে মাতামাতি করছেন, তাঁরা আগামিদিনে দেখবেন ‘‌দ্য ডিজাস্টারাস পিএম’। সবাই তো অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার। এরপর ওই সিনেমাটিই বেরোবে।‌’‌‌‌‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top