আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্যের মুকুটে ফের নতুন পালক। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’ পাচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের পুরস্কার। রাষ্ট্রপুঞ্জের আইটিইউ–এর উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফর্মেশন সোসাইটি (‌ডব্লিউএসআইএস)‌ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার ১৮টি বিভাগের জন্য ১,০৬২টি আবেদন জমা পড়েছিল। বাছাইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী ২০ লক্ষ ভোট পড়ে। ‘‌ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’‌ বিভাগে ১৪৩টি আবেদনের মধ্যে থেকে ভোটপ্রাপ্তির বিচারে ৫টি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছে। তার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্প। ‘‌‌উৎকর্ষ বাংলা’কে বাছাই করা হয়েছে অন্যতম সেরা প্রকল্প হিসেবে। আগামী ৯ এপ্রিল আইটিইউ–এর প্রধান দপ্তর জেনেভায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে।‌‌ সেখানেই জয়ী প্রকল্পের নাম ঘোষণা করা হবে।
রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু জানিয়েছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর প্রতিযোগিতা হয়েছিল। ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বিভাগে ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রকল্পে যাঁরা প্রশিক্ষণ নেন, তাঁদের কোনও টাকা দিতে হয় না।রাজ্যই প্রশিক্ষণের খরচ বহন করে। দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এটা নেই।
অবশ্য রাজ্যের প্রকল্প রাষ্ট্রপুঞ্জের বিচারে সেরা হওয়া এই প্রথম নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাবনায় গড়ে ওঠা ‘‌কন্যাশ্রী’‌ ২০১৭ সালেই পেয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিচারে সেরার তকমা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগ শহরে গিয়ে কন্যাশ্রীর বিশ্বসেরা হওয়ার এই খেতাব গ্রহণ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতা বাড়াতে ২০১৬ সালে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের অধীনে পলিটেকনিক, আইটিআই ও ভোকেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্টকে এক ছাতার তলায় এনে ‘‌উৎকর্ষ বাংলা’‌ প্রকল্প চালু ‌হয়। প্রতি বছর ৬ লক্ষ ছেলেমেয়েকে বিভিন্ন বিষয়ের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকার চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেক ব্লকের সভাপতি ও অন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে। সেইমতো তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি www.pbssd.gov.in ‌নামে উৎকর্ষ বাংলার একটি পোর্টালও চালু করেন। নথিভুক্তিকরণ, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নথিভুক্তিকরণের কাজ করা যায় ওই পোর্টালে। পর্যটন, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, পোশাক তৈরি, কৃষি, ঢালাই, অটোমোবাইল ও সার্ভিসিং ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনটি স্তরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্য রয়েছে রাজ্যের।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top