বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: দাঙ্গা, অপপ্রচার, গণপিটুনি রুখতে রাজ্যের ঝাড়খণ্ড–ওডিশা সীমান্তে কড়া নজরদারি চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ জন্য সব থানার ওসি, আইসি–দের নিজেদের এলাকা দেখে রাখা ও এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য পুলিসের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন, যেখানে–যেখানে এ রাজ্যের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার সীমান্ত রয়েছে, সেখানে–সেখানে সিসি টিভি এবং ওয়াচ টাওয়ার বসাতে হবে। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দলের গোরক্ষকদেরে হাতে খুন হওয়া পুলিস অফিসার সুবোধকুমার সিংয়ের মৃত্যু নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানান।
দু’‌দিনের জেলা সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার দুপুরে মেদিনীপুরের পুলিস লাইনে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিয়ে প্রথমেই জেলার অবৈধ বালি খাদান ও মোরাম খাদান বন্ধে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। অবৈধ বালি খাদান বেড়ে যাওয়ায় কাঁসাই নদী, সুবর্ণরেখা, শিলাবতী, পারাং নদীর পাড় ধসে যাচ্ছে। ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিক এবং থানার ওসি, আইসি–দের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আপনারা এতজন অফিসার আছেন, নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না?‌ কী করেন ?’‌ জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, ৬ মাসের মধ্যে সমস্ত বালি খাদানে সিসি টিভি লাগাতে হবে। মাফিয়ারা যাতে সিসি টিভি–র মুখ ঘুরিয়ে দিয়ে বালি ট্রাক নিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সমস্ত খাদানে পুলিস পোস্টিং থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এটা একটা বড় সমস্যা। আর বরদাস্ত করা হবে না।’‌
সাংসদ মানস ভুইঁয়া উল্লেখ করেন, টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ১২ চাকা থেকে ২২ চাকা পর্যন্ত ভারী গাড়ি গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার ফলে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তা বসে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পাশে বসা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলেন, ‘‌অবিলম্বে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা একদিকে গড়ব। আর ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা ভারী লরি টোল ফাঁকি দিতে গ্রামের রাস্তা ভাঙবে, এটা চলবে না। বাংলা সড়ক যোজনায় রাস্তা গড়তে অনেক টাকা খরচ হয় সরকারের। সেতু ভেঙে যাওয়ায় ২০ চাকার লরি–চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক ও পুলিস সুপারকে তিনি বলেন, ‘‌এখন থেকে গ্রামীণ সড়কে চার চাকার ট্রাক ছাড়া এর বেশি চাকার কোনও ভারী গাড়ি চলবে না। সরকারি কোনও প্রকল্প হলে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।
গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিডিও–দের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌গ্রামীণ সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড করুন। নিয়ম ভাঙলে মোটা টাকার জরিমানা করুন। এতেও কাজ না হলে ১০ দিনের জন্য ট্রাক, লরি আটক করে রাখুন। ওভারলোডেড কোনও গাড়ি গ্রামের রাস্তায় ঢুকবে না। সারা বাংলা জুড়ে এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।’‌ প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্মল বাংলা, রেশন ব্যবস্থা, কৃষি, সেচ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, একশো দিনের কাজ, বন, হাতির সমস্যা, প্রত্যন্ত গ্রামে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, মাদুর ও পটশিল্পের উন্নতিকরণ, খড়্গপুর ও গোয়ালতোড় শিল্প তালুকের কাজের অগ্রগতি নিয়ে জেলাশাসকের কাছে জানতে চান।
নির্মল বাংলা নিয়ে জেলাশাসক পি মোহন গান্ধীকে তিনি নির্দেশ দেন, ব্লকগুলিতে বিশেষ করে কেশিয়াড়ি ব্লকের কাজ কেমন হয়েছে, তা অডিট করে দেখতে হবে। নির্মাণ সহায়করা কেমন কাজ করেছেন, জনগণকে ঠকিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। রেশন কার্ড–সহ সমস্ত ভাতা প্রাপকদের কার্ড যেন উপভোক্তা ছাড়া অন্য কারও কাছে না থাকে। ‌প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, সমস্ত দপ্তরের সচিব–সহ সাংসদ উমা সোরেন, মানস ভুইঁয়া, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, জেলার সব তৃণমূল বিধায়ক, পুরসভার পুরপ্রধানরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ–সভাধিপতিরা উপস্থিত ছিলেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top