‌রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: রাজ্যের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মিনিট চল্লিশের সাক্ষাতে রাজনৈতিক কূটকচালি দূরে সরিয়ে রেখে রাজ্যের দাবি আদায়ে লড়লেন মমতা। আগামিকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার সন্ধেয় মমতার সঙ্গে দেখা করে গেছেন কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেল। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী আরও কয়েকটি দলের নেতারা।
গতকাল সন্ধেয় উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে চন্দননগরের ‘‌জলভরা’‌ সন্দেশ এবং বিশ্ববাংলা কুর্তা পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিকেলে দু’‌‌ডজন হলুদ গোলাপ ফুলের তোড়া নিয়ে ৭, লোককল্যাণ মার্গে মোদির বাসভবনে পৌঁছন মমতা। বৈঠক শুরু সাড়ে ৪টে নাগাদ। মমতা বেরিয়ে আসেন ৪০ মিনিট পর।
এদিনের বৈঠকে মমতা সরব থেকেছেন কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের প্রাপ্য সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা–‌সহ একগুচ্ছ আর্থিক দাবি ও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে। তাছাড়া বীরভূমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা ব্লক দেউচা–পাচামি নিয়ে কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মমতার প্রতিটি দাবি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। বাংলার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্যের দাবিদাওয়ার বিষয়গুলি বিবেচনার আশ্বাসও দিয়েছেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‌ভাল আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয়ে নয়, প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা করেছি।’‌ এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে এবার কোনও না কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি ‘‌‌বাংলা’‌ নাম নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ কোনও পরামর্শ থাকলে দেওয়া হোক। রাজ্যের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে আপত্তি নেই। তবে, বাংলা নামের সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। গণতন্ত্রে একজন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা রাখা।’‌
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বেশ কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে বীরভূমের দেউচা–‌পাচামি কয়লা ব্লক নিয়ে। কয়লা ব্লকটি পরিচালনার ভার রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘দেউচা–‌পাচামিতে ‌১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। লক্ষাধিক ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হবে। ৬টি রাজ্যের মধ্যে যোগ্যতার বিচারে পশ্চিমবঙ্গ বরাত পেয়েছে। এজন্য কেন্দ্রের কাছে ৫০ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। ইতিমধ্যে সেই টাকা দেওয়া হয়েছে। পুজো ও নবরাত্রির পর দেউচা–‌পাচামি প্রকল্পের উদ্বোধন করা যেতে পারে। সে–ব্যাপারে কথা হয়েছে।’‌ এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌এয়ার ইন্ডিয়া, কোল, রেল এবং অর্ডন্যান্স–‌সহ নানা বিষয়ে আগেও কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়েছি। আজ আবার বলেছি। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক বৈঠক নয়, এটা ছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা।’‌ 
রাজ্য সরকারের গত ৮ বছরের কাজকর্মের একটি বিবরণ তৈরি করে এনেছিলেন মমতা। এদিন সেটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। মোদি–‌১ সরকারে রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। শাহ এদিন ঝাড়খণ্ডে ছিলেন। তিনি সময় দিলে বৈঠক হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের দাবি নিয়ে পরে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি আসতে পারেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মমতা বলেছেন, ‘‌স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি সময় দিতে পারেন, তবে, কাল বৃহস্পতিবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারি।’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, রাজ্যে জিডিপি হার ১২.‌৮ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া পরপর ৫ বার কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যের সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক ‘‌কৃষিকর্মণ’‌ দিয়েছে বাংলাকে। ভুট্টাচাষে দেশের অন্যান্য রাজ্যকে হারিয়ে সেরা হয়েছে বাংলাই।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top