আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। চিকিৎসক ও রোগীদের সমন্বয়ে এই পরিষেবাকে আরও উন্নত মানে নিয়ে যেতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার নবান্নে এ নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর মমতা বলেছেন, ‘‌ডাক্তাররা আমাদের সম্পদ। ওঁরা খুব ভাল কাজ করছেন। তবে আরও অনেক কাজ করতে হবে। কারণ এটা সমাজসেবার দায়িত্ব। ডাক্তারদের হাসি মুখে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও ডাক্তারদের ব্যথাটা বুঝতে হবে। কতটা পরিশ্রম করেন ওঁরা।’‌ রাজ্যের চিকিৎসকদের কাছে মমতার তাই আবেদন, ‘‌সার্ভিস উইথ স্মাইল— উভয়পক্ষকে সুন্দরভাবে বোঝাপড়া করে কাজ করতে হবে।’‌ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, ডাক্তারদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে গন্ডগোল হলে পুলিসকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 
উল্লেখ্য, এদিন নবান্নে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওই বৈঠক ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব গৌতম সান্যাল, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব অনিল বর্মা, স্বাস্থ্য (‌শিক্ষা)‌ অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এছাড়াও রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের সুপার, অধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান চিকিৎসকরা, রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানরা–‌সহ পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তারা ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যে ২৭ হাজার শয্যা বেড়েছে। আরও বাড়ানো হবে।‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করলাম। খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সরাও ভাল কাজ করছেন। তবে নার্সদের রোগীদের বেড সাইডে আরও বেশি করে কাজ করতে হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী এদিনও জানিয়েছেন, দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গই বিনা পয়সায় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়। তাঁর বক্তব্য,‌ ২০১১ সালে যখন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। আগে সরকারি হাসপাতালে ১৩০০ ডাক্তার ছিলেন, এখন ২৯০০।  শিশু, প্রসূতি মৃত্যুর হারও অনেক কমেছে। ৪৩টি মাল্টি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে আইসিইউ হয়েছে। সিক নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিট ৭০ শতাংশ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌অনেকটাই কাজ হয়েছে। তবে আরও অনেক কাজ করতে হবে। শুধু এ রাজ্য নয়, ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও রোগীরা আসেন চিকিৎসা করাতে। অন্য রাজ্যের রোগীদের থেকে ফিজ নেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রত্যেকদিন চিকিৎসকরা ২ লক্ষেরও বেশি রোগী দেখেন। দিনে ৭–৮ ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে সময় দেন। আমাদের কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক, হিউম্যান মিল্কব্যাঙ্ক হয়েছে। আমরা আরও নার্স নেব।’‌ 
এদিকে এখন বিমানে যাতায়াতের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে এক দেশ থেকে আর এক দেশে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। জীবাণুকে আটকানো সম্ভব নয়। কিন্তু কীভাবে প্রতিকার করা যায় তার জন্য গবেষণার ওপর আরও জোর দিতে বলেন মমতা। রাজ্যে নিউরোসার্জারি ও কার্ডিওথোরাসিকের চিকিৎসকের সংখ্যা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে তিনি মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন। অনেক চিকিৎসক বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা, বেসরকারি শল্য চিকিৎসকদের দিয়ে অপারেশন করানো যায় কিনা তার জন্য আলাদা করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ যাতে কোনওভাবেই ব্যবহার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। কুকুরে কামড়ানোর ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার এটি দেয়। কর বাড়ানোয় যে কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে, তারা এখন করছে না। ফলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রকে বিষয়টি দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে নিট পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী অসন্তুষ্ট, উদ্বিগ্ন। ইংরেজি ও বাংলার প্রশ্নে অনেকটা ফারাক। ফলে বাংলার ছেলেমেয়েরা ভাল সুযোগ পেল না। তাঁর দাবি, আঞ্চলিক ভাষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এদিনের বৈঠকে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ‘‌রোগী কল্যাণ সমিতির কাজ হাসপাতালের উন্নয়নগুলি দেখা। কে কোন টেন্ডার পেল তা দেখা নয়। কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে।’‌ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রাজনীতি দেখতে চান না মমতা। সুপারদের তিনি বলেন, নিজেরা টেন্ডার দেবেন, কারও কথায় কোনও টেন্ডার ঠিক করবেন না। কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top