দীপেন গুপ্ত ও আলোক সেন, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া: নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদি–শাহের ‘‌জয় শ্রীরাম’‌–এর পাল্টা ‘‌জয় হিন্দ–জয় বাংলা–বন্দেমাতরম’‌ স্লোগান দিলেন মমতা ব্যানার্জি। বললেন, ‘‌জয় শ্রীরাম নয়, এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। আমরা বলব, ‘‌জয় হিন্দ–জয় বাংলা–বন্দেমাতরম’‌। পাঁচ বছরে যারা একটা রামমন্দির পর্যন্ত বানায়নি, তারা আবার রামকে নিয়ে বড় বড় কথা বলে!‌ রামের নামে ব্যবসা করে এরা। আমি বন্দেমাতরমে বিশ্বাস করি, জয়হিন্দে বিশ্বাস করি, মা–মাটি–মানুষে বিশ্বাস করি, কিন্তু বিজেপি–র ওই জয় শ্রীরাম স্লোগানে বিশ্বাস করি না। রামকে অবশ্যই মানি, ভক্তি করি। কিন্তু রামের নামে যারা তোলাবাজি করে, তাদের ভরসা করি না।’‌ মঙ্গলবার মমতা পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি এবং বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ও বড়জোড়ায় জনসভা করেন। 
পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি ঢেকশিলা ময়দানে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখার্জির সমর্থনে জনসভায় মোদি ও তঁার দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌আগে হাফপ্যান্ট পরে একটা বিড়ি তিনজন মিলে খেত। এখন দাদাগিরি করে টাকা পকেটে ঢোকায় ওরা। প্রথমবার অচ্ছে দিনের নামে মানুষের কাছে ভোট আদায় করে নোটবন্দি করল, আর এবার অচ্ছে দিনের নামে ওরা চাইছে সব বন্দি করতে।’‌ পুরুলিয়ার সভা সেরে তিনি যান বাঁকুড়ায়। জেলার জঙ্গলমহল রানিবাঁধের হলুদকানালি হাই স্কুল মাঠে সুব্রত মুখার্জির সমর্থনে ও বড়জোড়ায় বিষ্ণপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরার সমর্থনে জনসভায় বক্তব্য পেশ করেন তিনি। বলেন, ‘‌মাওবাদীদের দমন করে রাজ্যের জঙ্গলমহলে শান্তি এনেছি। এখানকার মানুষজনকে শান্তিতে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছি। যখন মাওবাদী–আতঙ্কে থরথর করে কাঁপত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল, তখনও আমি বারবার এসেছি এ–সব জায়গায়। বিরোধীরা তখন ঘরে লুকিয়ে বসে থাকত। আজ শান্তির জঙ্গলমহলে বিজেপি নেতারা আসছেন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। ওদের দু–একটা গদ্দার টাকার থলি নিয়ে জঙ্গলমহলের মানুষকে প্রলুব্ধ করতে চাইছে। ওদের কথায় কর্ণপাত করবেন না। ওরা টাকা দিলে নেবেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে একটি ভোটও দেবেন না।’‌
বিজেপি–কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‌‌বিজেপি–র ধমকানিতে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল যদি ভয়ে গুটিয়ে যায়, আমরা গোটাব না। ওদের বিরোধিতা করে এসেছি, করে যাব। বেড়ালের গলায় কাউকে না কাউকে তো ঘণ্টা বাঁধতেই হবে। বিজেপি ফের ক্ষমতায় এলে, দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে। মানুষের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। তাই এই নির্বাচনে বিজেপি–কে দেশ থেকে হটাতে হবে।’‌ গত ৮ বছরে জঙ্গলমহলের উন্নয়নে কী কী কাজ করেছেন, তার লম্বা খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘‌একসময় এই জঙ্গলমহল ছিল অনুন্নত এবং উপেক্ষিত। আমরা ক্ষমতায় এসে এখানে স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানীয় জলের সুব্যবস্থা, মানুষের রুজি–রোজগারের ব্যবস্থা করেছি। দুঃখের দিনে বিরোধী কোনও দলকেই দেখা যায়নি। আজ ভোট এসেছে, তাই বিজেপি বসন্তের কোকিল হয়ে কুহু কুহু ডাকছে। নরেন্দ্র মোদি নোট বাতিল করে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে, ডিজেলের দাম বাড়িয়ে, চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে তিন কোটি মানুষের চাকরি নষ্ট করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তাই দেশের উন্নয়ন ও শান্তির পরিপন্থী এই বিজেপি দলকে একটি ভোটও দেবেন না।’
পুরুলিয়ায় শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌রঘুনাথপুরের বাসিন্দারা সত্যিই অনেক ভাগ্যবান, কারণ তাঁরা পেয়েছেন শিল্প–কারখানা, আমি ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে দিয়েছি ২০০০ একর জমি, এতে কর্মসংস্থানও হবে প্রচুর। পুরুলিয়ার ছেলেমেয়েদের কাজ করতে আর বাইরে যেতে হবে না। তবে জনসাধারণকে সহযোগিতা করতে হবে শিল্প–কারখানাগুলি গড়ে তুলতে। আমি ইতিমধ্যেই এ জেলার জন্য অনেক সুবিধে দিয়েছি। বিজেপি শুধু ‘‌মিত্রোঁ’‌ বলে মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে। তাই কাউকে ভোট না দিয়ে শুধুই নির্বাচিত করুন তৃণমূলকে। বিজেপি–র নেতাদের কাজ শুধু টাকা তোলা। রাজনীতি সেবার জন্যে। ব্যবসা করার জন্যে নয়। যতটুকু প্রয়োজন নিন। বিজেপি–র 
চাওয়ালা এসে বড় বড় কথা বলছে। আপনাদের বলে যাচ্ছি বিজেপি–কে ভোট দেবেন না। ওরা কী করেছে এখানে!‌ কুর্মি, মাহাতো, সাঁওতালদের জন্য আমরা নানা কাজ করেছি। সকলকে নিয়ে চলার নাম জিন্দেগি।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top