আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌‌‌‌‌মাঝেরহাট সেতুর পুরোটাই ভেঙে নতুন করে তৈরি করবে রাজ্য সরকার। সেতু ভেঙে পড়ার জন্য পূর্ত দপ্তরকেই দায়ী করা হয়েছে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘‌আমরা এক বছরের মধ্যেই এই সেতু নতুন করে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ততদিন বিকল্প পথ দিয়েই যাতায়াত করার সব রকম ব্যবস্থা করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মুখ্য সচিব মলয় দে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করেছেন। তিনি তাতে পরিষ্কার বলেছেন, সেতু ভেঙে পড়ায় পূর্ত দপ্তর তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তবে পূর্তমন্ত্রীর কাছে সেতু সংস্কারের কোনও ফাইল যায়নি। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। তাঁর কাছে জমা পড়া মুখ্য সচিবের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই জানা গিয়েছিল সেতুর অবস্থা বেশ খারাপ। তারপরেও বড় গাড়িগুলির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। শুধুমাত্র ফাইল চালাচালির জন্য সেতু সংস্কারে সময় নষ্ট হয়েছে, এটা মানা যায় না। পূর্ত দপ্তর তার দায় এড়াতে পারে না। তাদের এই অবহেলা ক্ষমার যোগ্য নয়।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌সেতুটি ৫৪ বছরের পুরনো। সেতু তৈরির কাগজপত্র সবসময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তবুও যখন থেকে সেতুর অবস্থা খারাপ হয়েছে জানা গেল, তখন থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। পুলিস তদন্ত করছে। তারাই আইনত সমস্ত ব্যবস্থা নেবে। পূর্ত দপ্তরের  আধিকারিকদের একাংশের গাফিলতি। যাঁরা দোষী তাঁরা কেউ রেহাই পাবেন না। পুলিস তাঁদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’‌
মুখ্য সচিবের প্রাথমিক রিপোর্টে সেতু ভেঙে পড়ার জন্য মেট্রো রেলের কাজও দায়ী থাকতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। মেট্রোর কাজে যে কম্পন হয়, তাতেও সেতুর ক্ষতি হতে পারে।

তবে কতটা ক্ষতি হয়, বিশেষজ্ঞরা তা খতিয়ে দেখে বলবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেতু ভেঙে পড়ার পর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে ৭–৮ জনের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মুখ্য সচিব নিজে দায়িত্ব নিয়ে পুরো রিপোর্ট তৈরি করেছেন।‌ কিন্তু তাঁরা তো টেকনিক্যাল এক্সপার্ট নন। ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে ওই নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই তিনি রিপোর্ট দিয়েছেন।’‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য, জোকা–বিবাদীবাগ মেট্রো প্রকল্প তাঁরই তৈরি করা। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে এই মেট্রো প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হয়েছে, যা ঠিক নয়। ৭ দিনের জন্য তিনি শুধু মাত্র সেতুর পাশের অংশে মেট্রোর কাজ বন্ধ করতে বলেছিলেন। কারণ সেখানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করে দেখছিলেন। টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের মতামত নিয়ে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্য সচিবই তৈরি করে দেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‌মাঝেরহাটে সেতুর যে অংশ দাঁড়িয়ে আছে, সেটা ভেঙে দিয়ে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করা নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও দ্বিমত নেই। একবার ভাবা হয়েছিল, ভাঙা সেতুর অংশে বেইলি ব্রিজ তৈরি করে ছোট ছোট হালকা গাড়ি চালাবে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না। এই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিতে গেলে ৬ থেকে ৮ মাস দেরি হয়ে যাবে। তবে কাদের দিয়ে কীভাবে এই সেতু তৈরি করা হবে, তা সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্য সচিব। এই সেতু যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার সঙ্গে অবশ্যই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দিকটা দেখা জরুরি।’‌ মুখ্যমন্ত্রী চান, এক বছরের মধ্যেই নতুন সেতু তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হোক। দক্ষিণ শহরতলি, বেহালা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

 

মাঝেরহাট সেতুর বাকি এই অংশও ভেঙে ফেলা হবে। ছবি: কুমার রায়, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top