আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মধ্যমগ্রামের যুবক খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। দফায় দফায় পুলিসি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করল আর্জিনার স্বামী জাকির মণ্ডল। ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে দেহের বিভিন্ন অংশ রেখে দেওয়া হয়েছিল কসাইখানায়। পুলিসের জেরায় তা স্বীকার করেছে ধৃত জাকির। হাড়হিম করা এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে গোটা মধ্যমগ্রামের রোহোন্ডা চণ্ডীগড়ের মোতির পোল এলাকায়। 
ঠিক কি ঘটেছিল সেদিন?‌ পুলিসের জেরায় জাকিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল স্বামী। আর তারপরই প্রেমিকের হাত, পা, মুণ্ডু কেটে খুন করা হয়েছিল হাসান আলিকে। বয়স ৩০। প্রতিবেশী হাসান আলির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন গৃহবধূ আরজিনা। স্বামীর নজর এড়িয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সেই সম্পর্ক চালিয়ে নিয়ে যান আরজিনা। কিন্তু গোপন সম্পর্কের কথা চাপা থাকেনি আরজিনার স্বামী জাকিরের কাছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার আচমকা ঘরে ঢুকে, প্রেমিক হাসান আলির সঙ্গে স্ত্রী আরজিনাকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে জাকির। তারপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাসান আলিকে কুপিয়ে খুন করে আরজিনার স্বামী জাকির। দেহ লোপাট করতে স্বামীর সঙ্গে হাত লাগান আরজিনাও। দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়। তারপর হাত, পা, মুণ্ডুহীন দেহ নোয়া খালের ধারে ফেলে আসে দম্পতি। জেরায় দম্পতি খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন হাসান। রাতেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। বুধবার খালে হাসানের মুণ্ডহীন দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল বাহিনী এবং র‌্যাফ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বারাসতের এসডিপিও দুর্বার ব্যানার্জি। হাসানের দেহ পাওয়া গেলেও তাঁর একটি পা ও মুণ্ডুর খোঁজ মিলছিল না। সে জন্য ফের খালে জাল ফেলে পুলিস। শেষে জাকিরের বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে ওই যুবকের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করেছে পুলিস। বুধবার সকালে মধ্যমগ্রামের নোয়া খালের ধার থেকে এক যুবকের হাত, পা, মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার হয়। ধৃতদের দফায় দফায় জেরার পরে পুলিসের দাবি, জাকির জানিয়েছে, সে নিজেই হাসানকে খুন করেছে। সাহায্য করেছে স্ত্রী আরজিনা। আর্জিনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মুদির দোকানি হাসানের। সোমবার সকালে তিনি আর্জিনার বাড়িতে যান। জাকির হঠাৎই ফিরে হাসানকে দেখে চপার নিয়ে তাড়া করে। ওই যুবককে ধরে কোপাতে থাকে। পরে দেহ লোপাটের জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নেয়। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top