আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লখনউয়ের হিন্দুত্ববাদী নেতা কমলেশ তিওয়ারিকে খুনের অভিযোগে মঙ্গলবার আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গুজরাট পুলিশের এটিএস (‌অ্যান্টি–টেরোরিস্ট স্কোয়াড)‌ এর হাতে তারা ধরা পড়েছে। ধৃতদের নাম আশফাক শেখ ও মৈনুদ্দিন পাঠান। গুজরাট–রাজস্থান সীমানা লাগোয়া শামলাজি থেকে এই ২ জনকে পাকড়াও করে গুজরাট পুলিশের এসটিএফ। কমলেশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এই ২ জনকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে গঠিত সিট এর দাবি অনুযায়ী, এই ২ জনই মূলত খুনি। এদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, কমলেশ তিওয়ারিকে ছুরি দিয়ে ১৫ বার কোপানো হয়। তারপর করা হয় গুলি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বুকের উপর চালানো হয় ছুরি। ঘাড়েও রয়েছে দুটো গভীর ক্ষত। গুলি চালানোর কথাও রয়েছে রিপোর্টে। 
গুজরাট এটিএসের ডিআইজি হিমাংশু শুক্লা হিন্দুত্ববাদী নেতা খুনে ‘‌মোস্ট ওয়ান্টেড’‌ আশফাক শেখ ও মৈনুদ্দিন পাঠানের গ্রেপ্তারির খবর নিশ্চিত করেন। দু’‌জনেই সুরাটের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তারা ফেরার ছিল। এটিএস গত ১৯ অক্টোবর সুরাট থেকে কমলেশ তিওয়ারির খুনে যুক্ত আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে আশফাকের ছোট ভাই রশিদও রয়েছে। বাকি দু’‌জনের নাম ফৈয়াজ শেখ ও মৌলানা মহসিন।
তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই বলে আসছেন, হজরত মহম্মদ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণেই রোষানলে পড়েন এই হিন্দুত্ববাদী নেতা। এখনও পর্যন্ত সেই ধারণাতেই তাঁরা আটকে রয়েছেন। এই খুনের পিছনে এখনও পর্যন্ত বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে পুলিশের মনে হচ্ছে না।
কমলেশ তিওয়ারি হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সিট এর একটি দল মঙ্গলবারই সুরাটে পোঁছায়। ওই দিনই ধরা পড়ে ওই দুই ‘‌খুনি’‌। তদন্তকারীদের দাবি, আশফাক ও মৈনুদ্দিনই হিন্দুত্ববাদী নেতার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলার নলি কেটে দিয়েছিল। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, সুরাটের এক দোকানের মিষ্টির প্যাকেট ‘‌খুনি’‌দের নাগাল পেতে পুলিশকে সাহায্য করে। ওই মিষ্টির প্যাকেটে লুকিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি তারা নিয়ে এসেছিল লখনউয়ে।
হিন্দু সমাজ পার্টি নেতা কমলেশ তিওয়ারিকে এলোপাথাড়ি কোপানোর পর, মুখের ভিতরে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গুলি করা হয়েছিল। মৃত্যু নিশ্চিত করতে এরপর গলার নলি কাটা হয়। ময়নাতদন্তে কমলেশ তিওয়ারির গলায় আটকে থাকা সেই গুলিটি পাওয়া যায়। উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী এই নেতাকে যে নৃশংসতার সঙ্গে তিনজন মিলে খুন করেছে, তাতে পুলিশের ধারণা, খুনিরা কিছু একটা বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছে।
চাঞ্চল্যকর কমলেশ তিওয়ারি খুনের প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, আসিফ ওরফে আশফাক শেখ ও মৈনুদ্দিন পাঠানই মূলত খুনটি করেছে। সোমবার পর্যন্ত এই দু’‌জনেই ফেরার ছিল। খুনের তদন্তে গঠিত স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক অফিসার জানান, কমলেশকে একা হাতে খুন করা নিয়ে আসিফ শুরুতে ধন্দে পড়েছিল। হিন্দুত্ববাদী নেতা খুনের পরদিনই গুজরাটের সুরাট থেকে যে তিন সন্দেহভাজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, তারাই জেরায় এ কথা জানায়। আসিফ নারাজ হওয়ায়, সেই ভার পড়ে মৈনুদ্দিনের উপর। শেষপর্যন্ত মৈনুদ্দিনই কমলেশ তিওয়ারির গলার নলি কেটে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।
সিট আরও জানাচ্ছে, লখনউয়ে কমলেশ তিওয়ারির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আশফাক ও মৈনুদ্দিন অ্যান্টি–অ্যাংজাইটির পাশাপাশি শক্তিবর্ধক ওষুধও নেয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কমলেশ তিওয়ারির গলার নলি কাটার সময় নিজের হাতেও চোট পায় মৈনুদ্দিন। ওই অবস্থায় ক্ষত আড়াল করতে, পরনের কুর্তার পকেটে হাত ঢুকিয়ে নেয় সে। ফিরে আসে হোটেলে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই তা জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের কাছে যা খবর, খুন করার পর দু’‌জনে পালিয়ে যায় বরেলিতে। তারপর মৈনুদ্দিন এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যায়। পুলিশের ধারণা, কোনও ইসলামিক হাসপাতালে চিকিত্‍‌সা করিয়েছে মৈনুদ্দিন। লখনউ ছেড়ে পালানোর সময় শাহজাহানপুরের হোটেল প্যারাডাইসে তারা ছিল। ওই হোটেল থেকে দু’‌জনে একটি গাড়িতে বেরিয়ে যায়। সিসিটিভির সেই ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে।
পুলিশ আরও জানাচ্ছে, সুরাট থেকে লখনউয়ে আসার সময় ট্রেনে সহযাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, লোকাল একটি সিম কার্ডও জোগাড় করে কমলেশের খুনিরা। বিজয় নামে ওই সহযাত্রীকে তারা জানায়, তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গিয়েছে। এরপর বিজয়ই কানপুরের একটি দোকান থেকে সিম কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়। সিম নিতে সেখানে আশফাক তার ডকুমেন্টও জমা দেয়।
আরও যেটা জানা গিয়েছে, খুনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে, হিন্দুত্ববাদী নেতার সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল আসিফ। যদিও ভুয়ো নামে।। রোহিত সোলাঙ্কি পরিচয়ে কমলেশ তিওয়ারির সঙ্গে বন্ধুত্ব জমিয়েছিল। 

জনপ্রিয়

Back To Top