Bappi Lahiri: প্রতিদ্বন্দ্বী বাপ্পিকে রসিকতা করে কল্যাণ বলেছিলেন, 'বাপি বাড়ি যা'

বিভাস ভট্টাচার্য: দিনটা আজও মনে আছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির।

২০১৪ সালের ঘটনা। লোকসভা নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শ্রীরামপুরে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে ভরে যায় চুঁচুড়ার প্রশাসনিক ভবন। সেইসময় প্রতিদ্বন্দ্বীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন কল্যাণ, 'বাপি বাড়ি যা।'
বুধবার এই শিল্পীর প্রয়াণের পর সেই প্রসঙ্গে Aajkaal.inকে কল্যাণ বলেন, 'যে কথাটা বলেছিলাম সেটা সৌরভ গাঙ্গুলির একটা বইয়ের নাম। ওটা ভেবেই বলেছিলাম। পরে শুনেছি এই কথাটার জন্য তিনি অনেক জায়গায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁকে এভাবে বলা হল। যেটা শুনে আমি সৌরভের বইয়ের উদাহরণটাই বলেছিলাম। কথাটা আমি রসিকতা করেই বলেছিলাম।'
প্রতিদ্বন্দ্বী বাপ্পি লাহিড়ীকে হারানোর জন্য সেদিন উঠে পড়ে লাগলেও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ীকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করেন কল্যাণ। নিজেই জানালেন। বুধবার তিনি বলেন, 'এককথায় নক্ষত্র পতন। ভারতের সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।'
কিন্তু বাপ্পি, তিনি কি কোনওদিন কল্যাণের নাম নিয়ে কিছু বলেছিলেন? না, বলেননি। কল্যাণ নিজেই জানালেন। তাঁর কথায়, 'না, আমায় কোনওদিন তিনি কিছু বলেননি।'
জীবনের ওই প্রথম ও শেষ নির্বাচনে লড়ে শেষপর্যন্ত কল্যাণের কাছে পরাজিত হন বাপ্পি। কিন্তু নির্বাচনের ওই সময়টায় তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিলেন হুগলির বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
সেইসময় বাপ্পির হয়ে নির্বাচনের কাজ করা হুগলির বিজেপি নেতা সুমন ঘোষ বলেন, 'অসাধারণ ভাল ব্যবহার। কর্মীদের পিঠে হাত দিয়ে সবসময় কথা বলতেন। কোনওদিন রেগে যাননি। ওঁর ব্যবহার দেখে কেউ বলবেন না যে তিনি একজন ভারতবিখ্যাত ব্যক্তি।'
তবে নির্বাচনের কাজে এসে প্রথমদিন জেলা বিজেপি অফিসে ঢুকতে পারেননি বাপ্পি। সুমনের কথায়, 'আমার ওপর দায়িত্ব ছিল ওঁর কনভয়টা জেলা অফিসে নিয়ে যাওয়ার। উত্তরপাড়া থেকে বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ শুরু হল তখন রাস্তায় কয়েক লক্ষ লোক। উত্তরপাড়া থেকে গাড়িতে মেরে কেটে শ্রীরামপুর বটতলায় পৌঁছতে সময় লেগেছিল পাঁচ ঘণ্টারও বেশি। রাত সাড়ে দশটায় শ্রীরামপুর থেকেই জেলা অফিসে না গিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়ে যান তিনি।'
নির্বাচনী বিভিন্ন প্রচারে ভোটারদের মধ্যে থেকে আসত গানের অনুরোধ। হাসিমুখে অনুরোধ রাখতেন তিনি। সব থেকে কোন গানটা লোকে শুনতে চাইত? হুগলির বিজেপি কর্মীদের কথায়, 'কভি আলবিদা না কহে না।'

আরও পড়ুন: আজ থেকে প্রাথমিকেও খুলে গেল রাজ্যের সমস্ত স্কুল, খুশির হাওয়া ক্লাসরুমে

আকর্ষণীয় খবর