Jalpaiguri: দুই বছর পর করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জল্পেশ মন্দিরে ভক্তের ঢল, বসেছে মেলাও

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহাশিবরাত্রির দিনেই জমে উঠল জল্পেশ মন্দির প্রাঙ্গণ। গত দু'বছর ধরে করোনার প্রভাব থাকায় নানা বিধিনিষেধ ছিল। তাই সেভাবে ভিড় হয়নি জল্পেশ মন্দিরে। এবার করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতেই আতঙ্ক কাটিয়ে ভক্তের ঢল নেমেছে মন্দিরে। উত্তরবঙ্গ-সহ নিম্ন আসামের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে প্রাচীন শিবের তীর্থক্ষেত্র এই জল্পেশ মন্দির। শিব চতুর্দশী উপলক্ষে এই মন্দিরে থাকা শিবলিঙ্গতে জল ঢালতে আসেন লক্ষাধিক শিবভক্ত।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের জল্পেশ এলাকায় জর্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির। উত্তরপূর্ব ভারতের এটি একটি বিশিষ্ট শিব মন্দির। কথিত আছে, কালিকা পুরান, স্কন্দ পুরান খ্যাত এই মন্দির। অন্তত হাজার বছর আগে প্রাগজ্যোতিশপুর(আসাম)-এর রাজা জল্প বা জল্পেশ এই মন্দির স্থাপন করেন। সবজে সাদা রঙের এই শিবলিঙ্গকে অনাদি লিঙ্গ বলা হয়। কেউ বলেন কালা পাহারের আক্রমণে, তো কেউ আবার বলেন প্রাকৃতিক কারণে এই মন্দির একবার ধ্বংস হয়।

এরপর কোচবিহারের মহারাজা প্রাণনারায়ণ রায় এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯২৭ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করেন কোচবিহারের রাজা মোদ নারায়ণ।
১২৪ ফুট দীর্ঘ, ১২০ ফুট প্রসস্থ এবং ১২৭ ফুট উচ্চতা এই মন্দিরের। শিব চতুর্দশীর পাশাপাশি পুরো শ্রাবণ মাস ধরে এই মন্দিরে ভক্তের সমাগম হয়। উত্তরবঙ্গ সহ নিম্ন আসামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ করে রবিবার রাতে ভক্তরা তিস্তা নদীর পারে এসে জমায়েত হন। সেখানে স্নান সেরে পায়ে হেঁটে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মন্দিরে যান। মেলাও বসে সেখানে। মাসভর কয়েক লক্ষ শিব ভক্ত আসেন এখানে। শিবরাত্রির সময় ভক্তের সমাগম হয়। এই সময় মন্দির সংলগ্ন প্রায় দু'কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলা বসে। এই মেলা আগে প্রায় ১ মাস ধরে চললেও এখন ৭ দিন ধরে চলে।

আরও পড়ুন: খুলল তারকেশ্বর মন্দিরের গর্ভগৃহ, নামল পুণ্যার্থীদের ঢল

আকর্ষণীয় খবর