আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও অচলাবস্থা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় একদিন হতে চলল পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়েই আটকে রয়েছেন উপাচার্য। যতক্ষণ পর্যন্ত কলা বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদল করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ততক্ষণ নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ পড়ুয়ারাও। এদিকে, কর্তৃপক্ষও অনড় কলা বিভাগে ভর্তি হবে উচ্চমাধ্যমিক এবং তার সমতুল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। ফলে এককথায় যাদবপুরের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার মুখে। এর মধ্যেই ভর্তির দিন ঘোষণা করা দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার অ্যাডমিশন কমিটি বৈঠকের পর জানায়,  চলতি মাসের ২৭, ২৮, ৩০ এবং ৩১ জুলাই যাদবপুরে ছাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে স্নাতকে ফর্ম ফিলাপ। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকবেন না ইংরেজি অধ্যাপকরা। অসম্মানিত, অপমানিত বোধ করায় তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  ইংরেজির অধ্যাপকরা তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। এদিকে, এর আগে বুধবার দুপুরেই ইসি–র বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার যে দীর্ঘদিনের প্রথা চলছিল যাদবপুরে, তা চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বন্ধ।

ছাত্র ভর্তি হবে নম্বরের ভিত্তিতেই। আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই বৈঠকের পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। বিক্ষোভরত ছাত্র–ছাত্রীদের দাবি, কোনও চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে যাদবপুরে। না হলে যে ছাত্র–ছাত্রীরা এতদিন ধরে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁরাও এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন। আর অনড় পড়ুয়াদের এই অবস্থান বিক্ষোভের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে রয়েছেন উপাচার্যও। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন যাদবপুরের প্রাক্তনীরাও। তাঁরাও দাবি তুলেছেন, এভাবে বহুদিনের প্রথাকে ভেঙে দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় এই সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে পোস্টারও পড়েছে। ‌তবে এসবের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রভর্তির নতুন দিন ঘোষণা করে দিয়েছে।

 

ছাত্র বিক্ষোভ যাদপুরে। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top