আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌ওরকম শিশুর মতো কৌতুহলী চোখ আমি কম দেখেছি। আমি দৃশ্যগুলির ছবি আঁকছিলাম। সেট ও প্রপের মিনিয়েচার বানিয়ে ক্যামেরায় ধরছিলাম। সুশান্ত চুপ করে টেবিলের ওপর উঠে বসে কাজটি দেখছিল। সুশান্ত কখনও এত সূক্ষ্ম কাজ নিজের চোখে দেখেনি। মাঝে একটু বিরতি নিতেই সুশান্ত আমায় জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি তো লম্বা দৌড়ের ঘোড়া। তোমার প্রতিভার ওপর কেউ নজর না দেয়।’‌ সেই তাঁর প্রথম আলাপ সুশান্তের সঙ্গে। 
‘‌‌দিল বেচারা’‌ ছবিটির গোটা স্টোরিবোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন উত্তর কলকাতার বাসিন্দা আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র অনিকেত মিত্র। সমস্ত ক’‌টি দৃশ্যের ছবি তিনি নিজে হাতে তৈরি করেছেন। অনিকেত বললেন, ‘‌আমি ছবিটা দেখতে পারিনি। ওরকম একটা প্রাণবন্ত ছেলেকে হাঁটতে, চলতে, গাইতে, নাচতে দেখা.‌.‌.‌ যে আর নেই। ক্ষমতা লাগে। আমার নেই। এটি আমার প্রথম মুম্বইয়ের কাজ। বলা ভাল, প্রথম পেশাদার কাজ। কিন্তু সুশান্তের শেষ কাজ। যার সঙ্গে প্রতি শনিবার স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ে দেখা হত, আড্ডা হত।

বিভিন্ন বিষয়ে। সব ব্যাপারে ওর আগ্রহ ছিল।’‌
অনিকেতের কথায়‌, ‘‌সে প্রতিভাবান, অসাধারণ অভিনেতা, জিনিয়াস। কিন্তু একটা গুণ ওর মধ্যে ছিল, যা সকলের থাকে না। আমার দেখা ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে ভাল একজন মানুষ। বড় মাপের যাকে বলা হয়। আমি আজও হজম করতে পারি না যে সে নেই।’ অনিকেতকে যখন জিজ্ঞেস করা হল, ম্যানির মৃত্যুশয্যার ছবি আঁকা আর তারপর ক’‌বছর বাদে সুশান্তের মাধ্যমে সেই গল্পটা সত্যি হয়ে যাওয়া। একজন শিল্পী হয়ে সেটা মনে করলে তাঁর কীরকম লাগছে?‌ তিনি জানালেন, ‘‌আমি ঠিক বলে বোঝাতে পারব না। কীরকম একটা অদ্ভুত লাগছে। জানি সবটাই কাকতালীয়। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি অত নিঁখুতভাবে ম্যানির মৃত্যুশয্যা না আঁকতাম, তাহলে কি অন্যরকম হত?‌ আমি কি জানতাম একদিন আমার আঁকা ছবিই গোটা দেশের দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে!’‌‌ ‘‌দিল বেচারা’‌ ছবির স্টোরিবোর্ড শিল্পী বঙ্গসন্তান অনিকেত মিত্রের এখন এই কথাগুলোই বারবার মনে হচ্ছে।

 

 

কথোপকথনে:‌ তিস্তা রায় বর্মণ‌  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top