আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পূর্ব ঘোষণা মতোই আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে অসমের নাগরিকপঞ্জী নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন বুদ্ধিজীবীরা। পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন তাঁদের ক্ষোভের কথা। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভাস চক্রবর্তী, সুবোধ সরকার, শুভাপ্রসন্ন, আবুল বাশার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, প্রতুল মুখোপাধ্যায়রা। এদিন শুরু থেকেই মোদি সরকারের পঞ্জীকরণের কঠোর বিরোধিতায় স্বর তোলেন সকলেই। বিভাস চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে থাকার পরেও কেন দেশের নাগরিকদের ভয় দেখানো হবে, কেন বলা হবে যে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে?‌ এমনটা তো হিটলারের জার্মানিতে হতো, এখন ট্রাম্পের আমেরিকায় হচ্ছে। ট্রাম্প যেমন এথনিক ক্লিনজিংয়ের কথা বলেছিলেন, তেমন শুদ্ধিকরণ করতে চাইছে মোদি সরকার। যেমন করে নোট বাতিলের সময় সরকার ব্যর্থ হয়েছিল, তেমন এক্ষেত্রেও হচ্ছে। কোনও মেথডোলজি মেনে এই পঞ্জীকরণ করা হচ্ছে না। যা খুশি তাই হচ্ছে। আমরা নিজের কবে বাংলাদেশ থেকে এখানে চলে এসেছি। সেই সময়ে ভারতের নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট বের করেছিলাম। কিন্তু এখন তো সেসব দেখাতে পারবো না। আমার ভোটার কার্ড আছে, আধার কার্ড আছে, কিন্তু এখন এই বয়সে এসে বার্থ সার্টিফিকেট কোথায় পাবো?‌ আমরা শঙ্কিত, আমাদের কী তাহলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে?‌ একই সুরে কথা বলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। কবি সুবোধ সরকার জানান, আজ পর্যন্ত কোনওদিন ‘‌জল’‌ আর ‘‌পানি’‌ কে আলাদা করা যায়নি, আর যাবেও না। বিজেপি নেতার নাম না করে তিনি বলেন, ‘‌টিভিতে বিজেপি নেতারা বলছেন, গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দেবেন। কতবড় সাহস, এটা কী তাঁদের বাপের জমিদারি’‌। একই সুরে কথা বলেছেন সাহিত্যিক আবুল বাশার। তিনি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘‌আর কতো বার বাস্তুহারা হতে হবে– এই কথাটা শীর্ষেন্দুদার মতো প্রবীণ সাহিত্যিক বলছেন। কতটা যন্ত্রণা থাকলে একথা বলা যায়। মোদি সরকার মানুষের অন্তরের কোন যন্ত্রণায় আঘাত করেছে, সেটা একবার ভেবে দেখুন’‌। এরা এছাড়াও এদিন সভায় বক্তব্য রাখেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, প্রতুল মুখোপাধ্যায়রা। তাঁদের মুখেও ছিল মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর সমালোচনার ভাষা। পাশাপাশি, দেশে একমাত্র রাজনৈতিক নেত্রী হিসাবে মমতা ব্যনার্জি যে এ লড়াই লড়ছেন, তাও একবাক্যে প্রায় সকলের স্বীকার করেছেন।       ‌

জনপ্রিয়

Back To Top