সংবাদ সংস্থা, জোহানেসবার্গ: ‘‌পিঙ্ক ডে।’‌ সোজা বাংলায়, গোলাপি দিবস। না, ফেব্রুয়ারি প্রেমের মাস বলে নয়। উদ্দেশ্য, এই দিনটার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি যাঁরা এই রোগে ভুগছেন, তাঁদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই ২০১১ সাল থেকে অন্তত একটা দিন বিশেষভাবে পালন করে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। কোনও ম্যাচ থাকলে, তা চিরাচরিত সবুজ জার্সির বদলে গোলাপি জার্সি পরে খেলা হয়। প্রোটিয়াদের এই আচরণ গোটা বিশ্বেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এই দিনের টিকিট পাওয়ার জন্য দর্শকদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। তাঁরাও গোলাপি জার্সি পরেই মাঠে আসেন।
ভঙ্গুর দক্ষিণ আফ্রিকা দল এখন তাকিয়ে আছে গোলাপি দিবসের দিকেই। ভারতের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে শনিবার থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন এইডেন মার্করামরা। এমনিতেই ০–৩ পিছিয়ে থাকায় সামনে নাচছে সিরিজ হারের ভয়। এমন অবস্থায়, গোলাপি দিবসের রেকর্ড যদি প্রথম আত্মবিশ্বাস হয়, দ্বিতীয়টা অবশ্যই আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি‌ভিলিয়ার্স দলে ফেরার সংবাদে। ২০১১ সালে প্রথম গোলাপি জার্সি পরে ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। শনিবার হতে চলেছে ষষ্ঠ ম্যাচ। আগের পাঁচ ম্যাচের একটাও হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৩–র সিরিজে ভারতের বিরুদ্ধে এই পিঙ্ক ডে–তে একটা ম্যাচ খেলা হয়েছিল। সেবারও ওয়ান্ডারার্সে পাহাড়প্রমাণ ৩৫৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত হেরেছিল ১৪১ রানে।
এই জয়গুলোয় সবথেকে বড় ভূমিকা যিনি নিয়েছিলেন, সেই ডি‌ভিলিয়ার্স নিশ্চিতভাবেই শনিবার প্রথম একাদশে ফিরছেন। আঙুলের চোট কাটিয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ডি‌ভিলিয়ার্স। শুক্রবার ওয়ান্ডারার্সে চুটিয়ে প্র‌্যাকটিসও করেছেন। গোলাপি দিবসে ডি‌ভিলিয়ার্সের রেকর্ড রীতিমতো আকর্ষণীয়। ২০১৩–র ওই ম্যাচে ডিভিলিয়ার্স ৪৭ বলে ৭৭ করেছিলেন। দু’‌বছর পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একই দিনে মাত্র ৪৪ বলে ১৪৯ রান করেন। সেই সঙ্গে বাগিয়ে নেন ওয়ান ডে–তে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ফলে এরকম গুরুত্বপূর্ণ দিনে ডি‌ভিলিয়ার্সের ফিরে আসাটাই মনেপ্রাণে চাইছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
সাংবাদিক বৈঠকে এসে প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস তো বলেই ফেললেন, ‘‌এবি হল এবি। শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।

ওর ঠান্ডা মানসিকতা, অগাধ অভিজ্ঞতা আমাদের দারুণ কাজে লাগে। ওর মতো একজন বিশ্বমানের প্লেয়ারকে ড্রেসিংরুমে ফিরে পাওয়া আমাদের কাছে সত্যিই একটা অন্যরকম মুহূর্ত হতে চলেছে। ওর সঙ্গে মাঠে ফিল্ডিং করা মানে আমার কাছে একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আমার কাছে এবি সেরা না হলেও, বিশ্বের অন্যতম সেরাদের একজন। এবি একটা ফ্যাক্টর, এটা মানতেই হবে।’‌
কেন ডি‌ভিলিয়ার্স বাকিদের থেকে আলাদা, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মরিস। বলেছেন, ‘‌যতক্ষণ এবি মাঠে থাকবে, কোনও না কোনও উপদেশ দিয়ে যাবে। সে স্পিন হোক, পেস হোক বা উইকেটকিপার হিসেবেই হোক। কী উপদেশ দিল, সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু এবি যা–ই বলে, সেটাই ঠিক। আমি নিশ্চিত, কীভাবে স্পিন খেলতে হবে বা কীভাবে স্পিন বোলিং করতে হবে, তা নিয়ে আমাদের একটা দিশা দেখাবে এবি। যখন এবি বলে, তখন আমরা চুপ করে দাঁড়িয়ে শুনি, কারণ জানি ওর উপদেশ বরাবরই ঠিক হয়।’‌
দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ভরসা রেখেছে ডি‌ভিলিয়ার্সে, তখন ভারতের ভরসা বিরাট কোহলি। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার সিরিজ জিতে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসার হাতছানি। সিরিজে তিনটে সেঞ্চুরি করে ইতিমধ্যেই দুরন্ত ফর্মে থাকার পরিচয় দিয়েছেন বিরাট। তবে বিরাটের থেকে নিঃসন্দেহে অনেকটাই প্রচারের আলো কেড়ে নিয়েছেন দলের স্পিন–জুটি কুলদীপ যাদব এবং যুজবেন্দ্র চাহাল। আগের দিনই বিরাট কোহলি দু’‌জনকে ‘‌টেস্ট দলে ঢোকার বড় দাবিদার’‌ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এদিন বোলিং কোচ ভরত অরুণ তাঁদের আগামী বছর বিশ্বকাপ দলের ঢোকার বড় দাবিদার বলে জানিয়ে গেলেন। বললেন, ‘‌ওরা দু’‌জনেই প্রতিভাবান এবং সেটা ব্যবহার করতে জানে। ঘরের মাঠের পর এবার বিদেশের মাটিতেও যে ওরা সফল হতে পারে, সেটা প্রমাণ করেছে। আমরা চাইছিলাম বিশ্বকাপের আগে ওদের পরীক্ষা করে নিতে। যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’‌
তা হলে কি রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজার দরজা সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে?‌ খুব সংক্ষিপ্ত জবাব অরুণের, ‘‌ওরা মোটেই রেস থেকে ছিটকে যায়নি। এখনও দলে আসতে পারে।’‌‌‌

 

 

কোহলির হাসি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। ডি’‌ভিলিয়ার্সের কপালে আরও ভাঁজ পড়ছে। ছবি:‌ পিটিআই, এএফপি‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top