আজকালের প্রতিবেদন: যিনি প্রথম নোটবন্দির তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মমতা ব্যানার্জিই তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে টুইট করলেন। টুইটে লেখেন দেশে ‘‌কালোদিন’‌ শুরু হল। ২০১৬, ৮ নভেম্বর রাতে নোটবন্দি ঘোষণার পর থেকেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। সেই প্রতিবাদ আজও থামেনি। নোটবন্দির ফলে বিজেপি–‌র জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমেছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে উত্তাল হয় বিরোধী দলগুলি। কালো টাকা ফেরত আসবে বলে যে প্রতিশ্রুতি নরেন্দ্র মোদি দিয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী দেশে কালো টাকা ফেরত আসেনি। আজ নোটবন্দির ২ বছর পূর্ণ হল। ২০১৬–‌র ৮ নভেম্বর রাতেই প্রথম প্রতিবাদ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ২ বছর পূর্তির দিন মমতা টুইটে লিখেছেন, ‘‌দেশের মানুষকে ঠকিয়েছে কেন্দ্র।’‌ নোটবন্দিকে বড়সড় দুর্নীতি আখ্যা দিয়ে এভাবেই সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। কালা দিবস আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের টুইটার লেখেন, ‘‌প্রথম থেকেই বলছিলাম নোট বাতিল একটা সর্বনাশী কারবার। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষও এখন সেই 
কথা বলছে।’‌
পরের টুইটে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মমতা বলেন, ‘‌নোট বাতিল দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে সরকার সাধারণ মানুষের প্রতি প্রতারণা করেছে। লক্ষাধিক মানুষের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর যোগ্য শাস্তি মানুষ সরকারকে দেবেই।’‌ তিনি বলেন, ‘‌নোটবন্দি বিজেপি–‌র নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছিল। ক্ষতি হয়েছে বেকারদের। যাঁরা পরিবার চালান, সেই গৃহবধূরা কষ্ট করে সঞ্চয় করেন। রাতারাতি দেখা গেল, তাঁদের সঞ্চয় সব বাতিল হয়ে গেছে। কোনও কালো টাকা আজ পর্যন্ত ফেরত আসেনি।’‌ তাঁর প্রশ্ন, কে এর ফলে লাভবান হল?‌ ২০১৬–‌র ৮ নভেম্বর রাতে প্রতিবাদ করে মমতা প্রায় ৫টি টুইট করেন। দেশ জুড়ে তাঁর টুইট নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। তিনি সর্বপ্রথম রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান। ব্যাঙ্ক থেকে অফিসাররা নেমে এসে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন।
নোটবন্দির পর তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। প্রতিক্রিয়ার বদলে তাঁদের কান্না শুনেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‌আমি একজনের সঙ্গে দেখা করি। তিনি সাধারণ গৃহবধূ। তিনি আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা চেয়েছিলেন। ওই মহিলা বলেন, ‘‌আমি বাড়িতে যা সঞ্চয় করেছিলাম, তা সব বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আমার হাতে কোনও টাকা নেই। আপনার দেওয়া টাকা থেকে আমি জিনিসপত্র কিনব। আমি সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, সাধারণ মানুষের দুরবস্থার কথা।’‌
নোটবন্দির দু’‌বছর আগে মমতা শুধু প্রতিবাদ করেননি, তাঁর দল রাস্তায় নেমে মিছিল করেছে। চারদিকে ব্যানার, হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। হোর্ডিংয়ে লেখা হয়েছে, নোটবন্দির ফলে দেশে অর্থনীতিতে জরুরি অবস্থা শুরু হয়েছে। ‌সরাসরি নোটবন্দির জন্য দায়ী করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। নতুন হোর্ডিংয়ে লেখা হয়েছে নোটবন্দির ফলে দেশে জরুরি অবস্থা শুরু হয়েছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top