Capetown Test: কেপটাউন টেস্টে হার, দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয় অধরা ভারতের

আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারও হল না। তীরে এসে তরী ডুবল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ হারের ট্যাগ নিয়েই দেশে ফিরতে হবে বিরাটদের। কাজটা কঠিন ছিল, কিন্তু অসম্ভব হয়। ১১১ রান প্রয়োজন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। ভারতের দরকার ছিল ৮ উইকেট। ২৯ বছর পর প্রোটিয়াদের দেশে সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এবারও অধরাই থেকে গেল। শুক্রবার ৭ উইকেটে কেপটাউন টেস্ট হেরে গেল ভারত। চতুর্থ দিনই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এলগারের দল। সেঞ্চুরিয়ানে দুর্দান্ত জয় দিয়ে সিরিজের সূচনা করেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু ওয়ান্ডারার্স এবং কেপটাউনে ব্যাক টু ব্যাক হারে টেস্ট সিরিজ ২-১ এ হারল কোহলিরা। ভাঙাচোরা, অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাজি মেরে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জিততে হলে এদিন শুরুতেই কিগান পিটারসেন এবং ভ্যান ডার দুসেনের জুটি ভাঙতে হত। কিন্তু সেটা পারেনি ভারতীয় পেসাররা। তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রান যোগ করে এই জুটি। শেষপর্যন্ত পার্টনারশিপ ভাঙেন শার্দূল ঠাকুর। ৮২ রানে ফিরিয়ে দেন পিটারসেনকে। কিন্তু টেস্টের ভবিষ্যৎ ততক্ষণে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। বাকি কাজটা সারেন ভ্যান ডার দুসেন (৪১) এবং তেম্বা বাভুমা (৩২)। ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে পরপর দুটো টেস্টে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমক দক্ষিণ আফ্রিকার।

কেপটাউনে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু আবার কেপটাউনের পেস এবং সুইংয়ে ভরা উইকেটে ব্যাটিং বিপর্যয়। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় ভারত। তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন একা কুম্ভ রক্ষা করেন কোহলি। মেয়ে ভামিকার প্রথম জন্মদিনে দু'বছরের খরা কাটিয়ে শতরানে ফেরার একটা সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু শেষপর্যন্ত উইকেটের অন্য প্রান্তে সাপোর্ট না থাকায় পারেননি। ৭৯ রানে আউট হন কোহলি। তাঁকে কিছুটা সঙ্গত দেন পূজারা। ৪৩ করেন তিনি। পরের দিকে পন্থ কিছুটা চেষ্টা করলেও ২৭ রানে ফিরে যান। প্রথম ইনিংসে ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। চার উইকেট নেন রাবাডা, তিন জ্যানসেনের। ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকাও। 

শুরুতেই প্যাভিলিয়নে ফেরে দুই ওপেনার এলগার এবং মার্করাম। একমাত্র কিগান পিটারসেন রান পান। তাঁর ৭২ রানে ভর করে দুশোর গণ্ডি পেরোয় প্রোটিয়ারা। তাঁকে কিছুটা সাহায্য করেন বাভুমা (২৮)। প্রথম ইনিংসের শেষে ১৩ রানে লিড ছিল ভারতের। পাঁচ উইকেট নিয়ে টিম ইন্ডিয়াকে ম্যাচে ফেরান বুমরা। মাত্র ৪২ রান দিয়ে এই কীর্তি গড়েন ভারতীয় পেসার। কিন্তু বুমরার তৈরি করা মঞ্চ কাজে লাগাতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটারা। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। রাবাডা, জ্যানসেনদের পেসের সমানে আত্মসমর্পণ ভারতীয় ব্যাটারদের। প্রথম ইনিংসে লড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ কোহলিও। মাত্র ২৯ রান করে আউট হন। আবার ফ্লপ পূজারা, রাহানে। একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন ঋষভ পন্থ। দলকে একার হাতে টানেন ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে টেস্টে নিজের চতুর্থ শতরান তুলেন নেন পন্থ। ১৩৯ বলে ১০০ করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ব্যাটে ভর করে প্রায় দুশো রানের কাছাকাছি পৌঁছয় ভারত। কেপটাউন টেস্ট জিততে ২১২ রান দরকার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। শুরুটা ভাল করেছিল বুমরা, শামিরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। দুর্বল প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে পরপর দুই টেস্টে হার অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিল।

আকর্ষণীয় খবর