রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ১৮ নভেম্বর- রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে ‘‌রাজভবন থেকে রাজনীতি’‌ করার অভিযোগে সংসদে সোচ্চার তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। বাংলার রাজ্যপালের আচরণ, তাঁর মন্তব্য এবং গতিবিধির সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার উপনেতা। বলেছেন, ‌রাজ্যপাল থেকে ‌‘‌রাজনীতিপাল’‌ হওয়া উচিত নয়। রাজনীতি করতে হলে করুন। কিন্তু, রাজভবন ছেড়ে দিয়ে করুন। কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর পরামর্শ, ‘‌সময় এসেছে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাজ্যপাল পদটিকেও নিয়ন্ত্রণ করার। এ নিয়ে ভাবুক সরকার।’‌
এদিন রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশন উপলক্ষে এক আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। সারকারিয়া কমিশন ও পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশ কার্যকর না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর বাংলার রাজ্যপালের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কটাক্ষের সুরে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‌আমার নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল যা খুশি তাই করছেন। রাজ্যপালকে লোকে এখন কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট‌ বলছে। যদিও আমি নিজে তেমন মনে করি না।’‌ রাজ্যসভার বিধি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘‌নিয়ম অনুযায়ী, আমরা রাজ্যপালের সমালোচনা করতে পারি না। কিন্তু, সংসদে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব ‌আনা যায়। এর আগে আমি নিজে দু’‌‌বার প্রাক্তন রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে এই প্রস্তাব এনেছি। কিন্তু, তা নিয়ে আলোচনা হয়নি।’‌
সুখেন্দুশেখরের বক্তব্য, আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষে সারকারিয়া কমিশনের পর পুঞ্চি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশন ২০১০ সালে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। ন’‌বছর পরেও কমিশনের সেই সুপারিশগুলি পালন করা হয়নি। পূর্ববর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকার উদাসীন থেকেছে। অথচ, পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মজবুত করার কথা বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় নীতি তৈরির সময় রাজ্যের ক্ষমতা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সর্বদা সেদিকে নজর রাখতে হবে। সুপারিশ ছিল, রাজ্যসভার কমিটি কেন্দ্রীয় নীতি খতিয়ে দেখে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে। কিন্তু, সেই সুপারিশ গ্রহণ করেনি সরকার। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নীতিতে আরও বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হচ্ছে। সুপারিশে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩নং ধারার সংশোধনের কথা বলেছিল কমিশন। তৃণমূল নেতার অভিযোগ, ইদানীং রাজ্যসভার আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ বিল আনা হচ্ছে ‘‌মানি বিল’‌ হিসেবে। ঘুরপথে বিল পাশ করানোর জন্য এই পন্থা নিয়েছে সরকার পক্ষ। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এমন কিছু সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছেন। 

 

সুখেন্দুশেখর রায়

জনপ্রিয়

Back To Top