অরুন্ধতী মুখার্জি: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিপিএম রাজ্য কমিটিতে আর থাকলেন না। বৃহস্পতিবার দলের রাজ্য সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠিত হল। এই কমিটিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যেমন নেই, তেমনি আরও ৭ প্রবীণ ও একসময়ের হেভিওয়েট নেতাও নেই। এবারে দলের লক্ষ্য ছিল কমিটিতে নবীনদের জায়গা দেওয়া।  
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে রাখা হয়েছে। রাজ্য সম্মেলন এদিন শেষ হল। পরে সাংবাদিকদের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, বুদ্ধবাবু থাকতে চাইছিলেন না। ওঁর পক্ষে রোজ পার্টি অফিসে আসা মুশকিল। আমরা (‌আমি ও বিমানবাবু)‌ ওঁর বাড়িতে অনেক বার গেছি। ওঁকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু উনি মানতে চাননি। ওঁকে রাজি করানো খুবই মুশকিল। সেটা অবশ্য একদিক দিয়ে ভাল। ওঁর মধ্যে কমিউনিস্ট দৃঢ়তা আছে। কিন্তু আমরা বলি, রাজ্য কমিটিতে না থাকুন, অন্তত বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে থাকুন। তাতেও উনি রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বারবার অনুরোধ করায় উনি আমাদের কথা ফেলতে পারেননি। রাজ্য কমিটিতে না থাকলেও উনি বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে থাকতে রাজি হলেন। 
যে ৭ জন হেভিওয়েট বয়স বা অসুস্থতার কারণে থাকলেন না, তঁারা হলেন শ্যামল চক্রবর্তী, মদন ঘোষ, দীপক সরকার, বাসুদেব আচারিয়া, কান্তি গাঙ্গুলি, অসীম দাশগুপ্ত, নিরুপম সেন। এঁরা সকলেই বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবেই থাকলেন। প্রবীণ ও অসুস্থ নেতাদের স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার জন্য দল অনুরোধ জানায়। সেই ডাকে অনেকেই সাড়া দেন। যেমন, শ্যামল চক্রবর্তী। তিনি রাজ্য সম্পাদককে জানান, তিনি রাজ্য কমিটিতে থেকে আর কাজ করতে পারছেন না। কান্তি গাঙ্গুলির বয়স হয়েছে, চোখ খারাপের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগছেন। তিনি রাজ্য সম্পাদককে কিছুদিন আগে চিঠি দিয়ে কমিটিতে থাকতে চান না বলে জানিয়ে দেন। সেই অনুরোধমতো বৃহস্পতিবার রাজ্য সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রই থেকে গেলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তঁার পাশে বসে ছিলেন মহম্মদ সেলিম। রাজ্য সম্পাদক বদলের কোনও কথা ছিল না। তবুও এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, রাজ্য সম্পাদক কে হলেন?‌ সেলিম বলেন, যিনি সাংবাদিক সম্মেলন করছেন তিনিই রাজ্য সম্পাদক। এই মন্তব্য শুনে সূর্যকান্ত বলেন, রাজ্য সম্পাদক হওয়াটা বড় ব্যাপার নয়। কাজটা করাই কঠিন। অনেক বড় দায়িত্ব।
বয়সের কারণ দেখিয়ে বিমান বসু থাকতে চাইছিলেন না। কিন্তু তঁাকে ছাড়া হয়নি। সূর্যকান্ত জানান, পার্টি তঁাকে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মইনুল হাসানকে। কমিটি থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি প্রাক্তন সাংসদ। এছাড়া রাজ্য কমিটি থেকে যাঁরা বাদ পড়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্য দুটি উল্লেখযোগ্য নাম হল দেশহিতৈষীর সম্পাদক অশোক ব্যানার্জি, নন্দন সম্পাদক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী। অশোক ব্যানার্জির বয়স ৭৫। সুধাংশু দাশগুপ্তর পর তিনি দেশহিতৈষীর সম্পাদক হন। সম্মেলনে বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি এঁদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়লেও নন্দন সম্পাদক হিসেবে থেকে গেলেন। দেশহিতৈষীর নতুন সম্পাদক হলেন প্রণব চ্যাটার্জি। মইনুল হাসানকে এদিন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অবশ্য বলেন, আমি অব্যাহতি চেয়েছিলাম। রাজ্য কন্ট্রোল কমিশনের সভাপতি হলেন নিরঞ্জন চ্যাটার্জি। কন্ট্রোল কমিশনও বৃহস্পতিবার গঠন করা হল। দলের পত্রিকাগুলির সম্পাদকের নামও ঠিক হয়ে গেল। 
রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হল ২০ জনকে। আগের কমিটিতে ৮২ জন ছিলেন। ৭৯ জনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি গঠিত হল। আরও একজন পরে যুক্ত হবেন। সুতরাং এই নতুন কমিটি হবে ৮০ জনের। তাছাড়া, ৮ জন বিশেষ আমন্ত্রিত। নতুন এসেছেন ১৭ জন। পার্টি কংগ্রেসে যাওয়ার জন্য ১৭৫ জনের নাম স্থির হয়েছে। নতুন যাঁরা এলেন তাঁদের মধ্য আছেন—‌ অনন্ত রায়, মৃণাল রায়, আনারুল হক, নন্দলাল হাজরা, জামিল ফিরদৌস, বদরুদ্দোজা খান, সুভাষ মুখার্জি, তুষার ঘোষ, জামির মোল্লা, হিমাংশু দাস, অভয় মুখার্জি, বংশগোপাল চৌধুরি, প্রদীপ রায়, বিলাসীবালা সহিস, কনীনিকা ঘোষ, মধুজা সেন রায়, 
গৌতম ঘোষ। 

জনপ্রিয়

Back To Top