আজকালের প্রতিবেদন: চমক বলে চমক! একেবারে মহাচমক! চমকের এখনও বাকি রয়েছে। কোস্টা রিকার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা জনি অ্যাকোস্টাকে সই করিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। যা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আগে হয়নি। বিশ্বকাপার কলকাতা ময়দানে খেলে গেছে, এরকম সংখ্যা খুব একটা কম নয়। কলকাতা ময়দানে খেলে গেছেন মজিদ বাসকার, এমেকা থেকে শুরু করে লিও বার্তোস, কর্নেল গ্লেন, অ্যান্টনি উলফ্, কার্লোস হার্নান্ডেজের মতো বিশ্বকাপার। এঁদের কেউ–ই ‘কারেন্ট ওয়ার্ল্ড কাপার’ ছিলেন না। বিশ্বকাপে খেলা শেষ করেই কলকাতা ময়দানে খেলতে এসেছে, এরকম ঘটনা আগে হয়নি। হ্যাঁ, চলতি বিশ্বকাপে নেইমারের ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টার আগস্টে শহরে পা রাখার কথা। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কোস্টা রিকার বিরুদ্ধে ২–০ তে ম্যাচটা ব্রাজিল জিতেছিল ঠিকই, তবে টিটের দল গোল পেয়েছিল ম্যাচের অন্তিম লগ্নে।   
৫ ফুট ৯ ইঞ্চির এই ডিফেন্ডারের আর্থিক চুক্তি কর্তারা প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না, গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাইছেন। তবে, তঁাবুর ভিতরের খবর বলছে, অ্যাকোস্টাকে সই করাতে ইস্টবেঙ্গলের খরচ হয়েছে ২ কোটি–র মতো। এর থেকেও বেশি টাকায় মোহনবাগানে সনি নর্ডি, বেঙ্গালুরুতে মিকু ছাড়াও আইএসএলে কয়েকজন বিদেশি খেলে গেছেন। 
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই ৩৪ বর্ষীয় কোস্টা রিকার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের সঙ্গে কথা চলছিল লাল–হলুদের। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে, স্পনসর ঠিক হয়নি বলে, সইসাবুদ বাকি ছিল। কুয়েস সংস্থা ছাড়াও আরও তিন–চারটে সংস্থার সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসেবে কথাবার্তা হয়েছিল। তখন থেকেই এবার ভাল মানের বিদেশি নেওয়ার পরিকল্পনা করা শুরু লাল–হলুদ রিক্রুটারদের। শোনা যাচ্ছে, ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর ‘কুয়েস’ নাকি নির্দেশ দিয়েছে, উচ্চমানের বিদেশি নিতে হবে। বিশ্বকাপার নিলে অনেক বছর আগে বিশ্বকাপ খেলা, এরকম বিদেশি কুয়েসের পছন্দ নয়।
ইস্টবেঙ্গলে সই করে অ্যাকোস্টা বলেছেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ভারতের অন্যতম বড় ক্লাব। যে ক্লাবের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। নতুন ক্লাবের হয়ে আমি আমার সেরাটা দেব। এবং ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করব। আমার লক্ষ্য হল, ভারতীয় ফুটবলারদের গাইড করা। নিজের অভিজ্ঞতা দিেয় তাদের সাহায্য করব।’ তঁার সংযোজন, ‘ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ট্রফি জিততে চাই।’ একদম লাল–হলুদ সমর্থকদের মনের কথা বলেছেন। যা শুনে এবার দুর্দান্ত একটা মরশুমের স্বপ্ন দেখা শুরু করতেই পারেন লাল–হলুদ সমর্থকরা। গুগ্‌ল সার্চ ইঞ্জিন ঘেঁটে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা অ্যাকোস্টার জীবনপঞ্জি ইতিমধ্যেই চোখ বুলিয়ে ফেলেছেন, এই আশা করাই যায়। অ্যাকোস্টা সম্বন্ধে প্রথমেই যেটা বলা দরকার, তা হল, তিনি কোস্টা রিকা দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে ৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক গোল ২টি।  চলতি বিশ্বকাপে কোস্টা রিকার হয়ে তিনটে ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট মাঠে ছিলেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনটে ম্যাচ খেলে মোট পাস খেলেছেন ৭৩, যার মধ্যে নির্ভুল ৬৩, ক্লিয়ারেন্স ৮টা, ব্লকস ২ বার, নির্ভুল ট্যাকল করেছেন ১। ২০১১ সাল থেকে কোস্টা রিকা জাতীয় দলে খেলছেন। তাঁর এরিয়াল বলে দক্ষতা, সঠিক পজিশনিং হল তঁার কি–ফ্যাক্টর। চলতি বিশ্বকাপে কোস্টা রিকার কোচ অস্কার র‌্যামিরেজের তিন ডিফেন্ডারের রণনীতিতে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ‘সুইপারের’ ভূমিকায় খেলতে দেখা গেছে ইস্টবেঙ্গলের তারকা বিদেশিকে। চলতি বিশ্বকাপে ২ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন। তবে, মাইকেল উমানা, কেলর নাভাসের সতীর্থের পছন্দের জার্সি নম্বর ৩৩। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও খেলেছেন। এছাড়াও কোস্টা রিকার হয়ে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ, ২০১১ কনকাকাফ গোল্ড কাপ, ২০১১ কোপা আমেরিকাতেও অংশগ্রহণ করেছেন ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি।
ক্লাব ফুটবলে কোস্টা রিকার স্যান্টোস ডি গুয়াপিলস, লিগা ডিপোর্টিভা আলাজুয়েলেন্স, মেক্সিকান ক্লাব ডোরাডস, সি এস হেয়ারডিয়ানো ক্লাবে খেলেছেন। ইস্টবেঙ্গলে সই করার আগে কলম্বিয়ার ক্লাব রিয়োনেগ্রো আগুইলাসে খেলতেন লাল–হলুদের নয়া বিদেশি। কোস্টা রিকার কিউদাদ কুয়েসদা শহরে জন্মগ্রহণ অ্যাকোস্টার, ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই। ডিপোর্টিভো সাপ্রিসাতে তঁার ফুটবলের ইউথ কেরিয়ারের শুরু। তারপর ২০০৪ সালে স্যান্টোস এফসি–‌তে চলে যান। এই ক্লাবের হয়ে ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন।  ইস্টবেঙ্গলে সহ–সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বলছেন, ‘আমাদের কাজ আমরা করলাম। এবার মাঠে নেমে কী করে এখন সেটার দেখার।’ অ্যাকোস্টাকে সই করিয়ে নজির তৈরি করল ইস্টবেঙ্গল। ফুটবল সচিব রজত গুহ মন্তব্য করেন, ‘সভ্য–সমর্থকরা খুশি হলেই আমরা খুশি। অনেক বছর ট্রফি পাইনি আমরা। ট্রফি পাওয়ার জন্য এ বছর একটু অন্যভাবে চেষ্টা করছি। বিদেশি নিলে উচ্চমানের বিদেশি নেওয়া হবে। বিদেশি ছাড়া খেলব তা–‌ও ঠিক আছে, কিন্তু খেললে ভাল বিদেশি খেলবে এই বছর। বিশ্বকাপ দেখতে আমি এখন রাশিয়ায়। ফ্রান্স–বেলজিয়াম ম্যাচে আমাদের পাশে বেশ কিছু সেনেগালের ফুটবলার বসেছিলেন। যা বুঝলাম, ঠিকভাবে চেষ্টা করলে কোয়ালিটি বিদেশি কলকাতা ময়দানে খেলানো অসম্ভব কিছু নয়। বিদেশি নিয়ে অনেক ঠকেছি, আর নয়।’ 
লেখার শুরুতে ছিল, চমকের আরও বাকি। অ্যাকোস্টার পাশাপাশি আরও ২–৩ বিশ্বকাপারের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। কাৎসুমিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, ভাবনাচিন্তুা শুরু হয়েছে। কাৎসুমির জন্য থাকা–গাড়ি সব নিয়ে খরচ প্রায় ৮০ লাখের কাছাকাছি। সেই টাকার সঙ্গে আরও কিছু যোগ করে এশিয়ার কোনও বিশ্বকাপারকে নেওয়ার কথা ভাবছে। সূত্রের খবর, একজন বক্স স্ট্রাইকার, একজন হোল্ডিং স্ট্রাইকারের খোঁেজ রয়েছে লাল–হলুদ। অ্যাকোস্টাকে বাদ দিয়েও চলতি বিশ্বকাপ খেলা আরও একজনের সঙ্গে কথা বলছে ক্লাব। সেই চমকে কবে সরকারি সিলমোহর পড়ে, এখন তারই অপেক্ষায় লাল–হলুদ বিশ্ব।

জনপ্রিয়

Back To Top