সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও সঞ্জয় বিশ্বাস,দার্জিলিং: দেশ জুড়ে বিভাজনের রাজনীতি আমদানি করায় ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিশানায় প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি। সরাসরি নাম না করলেও বুধবার দার্জিলিং ম্যালে নেতাজির জন্মজয়ন্তীর মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সোচ্চার হন মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজি থেকে গান্ধীজি, আম্বেদকর, মৌলানা আবুল কালাম আজাদের কথা তুলে ধরে একতার প্রশ্নে বিজেপি–র নীতিকে বেঁধেন মমতা। একজন দেশনেতা কেমন হওয়া 
উচিত তাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন ম্যালে 
উপস্থিত জনতাও।
দার্জিলিঙে বিজেপি–র সাংসদ রয়েছেন। যদিও সেই সাংসদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভও রয়েছে পাহাড়ের মানুষের। বিজেপি পাহাড়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন না করায় ইতিমধ্যেই এনডিএ‌–‌র সঙ্গ ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেছে এক সময়ের শরিক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পাহাড়ের অন্য বড় দল জিএনএলএফ–‌ও। পরপর দু’‌বার এখান থেকে সাংসদ জিতিয়ে নিয়ে গেলেও সেখানেই আজ বিজেপি চূড়ান্ত ব্যাকফুটে। তাই ম্যালের মঞ্চ থেকে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীকে ঐক্যের প্রশ্নে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌যাঁরা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান, তাঁদের নেতা বলে মানি না। দেশের নেতা হন তাঁরাই, যাঁরা সব ধর্ম, জাতি, উপজাতির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন।’‌ 
এখানেই মমতা তুলে ধরেন আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নেতাজি বলতেন হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, সিন্ধ্রি সকলের একসঙ্গে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই ফৌজে নেতাজির ডান হাত ছিলেন শাহনওয়াজ খান। গান্ধীজি দেশের নেতা হয়েছিলেন সবাইকে নিয়ে চলতে পারার জন্যই। বাবাসাহেব আম্বেদকর, আবুল কালাম আজাদরা সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন। তাই প্রত্যয়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, যত দিন দেশে একতা বেঁচে থাকবে, সবাই একসঙ্গে এককাট্টা হয়ে দেশের কাজ করবে। যারা দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন করে, একজনকে আরেকজনের সঙ্গে লড়িয়ে দেয়, তাদের দেশের নেতা মানি না। যাঁরা সকলকে নিয়ে চলেছেন, দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, শহিদ হয়েছেন, তাঁরাই দেশের নেতা। 
একতার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ম্যালে উপস্থিত জনতা ও পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষে বারবার জয় হিন্দ ও বন্দেমাতরম স্লোগান তোলেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্লোগানে গলা মেলায় উপস্থিত জনতা। 
অনুষ্ঠানের শেষে কচিকঁাচা শিল্পীদের নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গান মুখ্যমন্ত্রী। মুখমন্ত্রীকে ঘিরে ম্যালে উপস্থিত জনতার আবেগ এতটাই ছিল যে, জাতীয় সঙ্গীতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা ম্যাল–চত্বর। প্রত্যেক সফরের মতো মুখ্যমন্ত্রীকে একবার কাছ থেকে দেখতে এদিনও উদ্বেল ছিল জনতা। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top