আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের মূর্তিস্থাপন অনুষ্ঠানের আগেই এনআরএস–এর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। চন্দ্রিমা নিজে আমাকে ফোন দিয়েছিল, কিন্তু আমি ফোন ধরে থাকলেও ওরা কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি।’‌ বৃহস্পতিবার এসএসকেএম থেকে এনআরএস–এর আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে এই অভিযোগই করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
দুপক্ষের বক্তব্য শুনে সোমবার রাতের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই তদন্ত করা হবে বলে জানিয়ে মমতার অভিযোগ, ‘এর মধ্যে ‌বিজেপি ঢুকে পড়ে হিন্দু–মুসলিম করছে। বলছে ডাক্তাররা মুসলিম রোগীদের দেখবে না। শুধু বিজেপির রোগীদের দেখবে। সিপিএম–এও কীভাবে এব্যাপারে বিজেপিকে সমর্থন করছে জানি না। অথচ দমকল যদি বলে তোমার পদবি কী বল তারপর আগুন নেভাতে যাব, বা সেনা যদি বলে পদবি বল তারপর রক্ষা করতে যাব তাহলে তো দেশটা আর দেশ থাকবে না।’‌ মমতার অভিযোগ জুনিয়রদের আন্দোলনে বহিরাগতরাও সামিল আছে।
এদিন মমতা বলেছেন, ‘‌আগে এরকম কিছু ঘটনা ঘটছিল। তখন কলকাতা সহ জেলার সব হাসপাতালে পুলিস মোতায়েন করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন পরে বিজেপি না কার নির্দেশে সেই পুলিস তুলে নিয়েছে তা জানি না।’‌ তবে অবিলম্বে ফের হাসপাতালগুলিতে পুলিস মোতায়েনের নির্দেশ কমিশনারকে বৃহস্পতিবারই দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘‌সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ডাক্তাররা আন্দোলন করতে পারেন না। তাই যেসব জুনিয়র ডাক্তাররা দুপুর দুটোর মধ্যে কাজে যোগ দেবেন না তাঁদের বিরুদ্ধে এসেনশিয়াল অ্যাক্ট বা প্রয়োজনীয় আইনের ধারায় পুলিসকে কঠোর পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছি আমি। চার দিন ধরে সহ্য করছি। আর করব না।’‌
মমতা আরও বলেছেন, তাঁর নির্দেশেই পুলিস কমিশনার নিজে গিয়ে টানা তিন ঘণ্টা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে থেকে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য চিকিৎসাধীন জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জির বাবা, মায়ের সঙ্গে কথা বলে সরকারি তরফে তাঁর চিকিৎসার সব ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। অনুযোগের সুরে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, একজন চিকিৎসক তৈরি করতে রাজ্য সরকারের ২৫ লক্ষ টাকা লাগে। কিন্তু বছর দুয়েক কাজ করার পরই সেই চিকিৎসক বাইরে বা বেসরকারি হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে ভিন রাজ্যের চিকিৎসকদের আনা হচ্ছে এবং ভাষা না বোঝায় রোগীদের সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসক–নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে। ফলে সমস্যা বাড়ছে।   

জনপ্রিয়

Back To Top