Murshidabad: মুর্শিদাবাদে পিএফআই, এসডিপিআই-এর কার্যকলাপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পিএফআই এবং এসডিপিআই -এর বিরুদ্ধে এনআইএ অভিযান।

এই দুই দলের বিরুদ্ধে দেশের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার পাশাপাশি একাধিক কট্টরপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। 

এনআইএ অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়েছে অন্যান্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিগুলো। তাদের নজর এখন মুর্শিদাবাদ জেলাতে। যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে পিএফআই এবং এসডিপিআই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের সংগঠন বিস্তার করেছে। 

এই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ থানা এলাকাতে 'ইউনিটি মার্চ' করে পিএফআই সদস্যরা তাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিল। সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলা ছাড়াও আশেপাশের বহু রাজ্য থেকে কয়েক হাজার যুবক এসে ওই 'মার্চে' অংশগ্রহণ করেন। 

সেন্ট্রাল আইবি-র এক অফিসার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন- পিএফআই দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। মুর্শিদাবাদ জেলাতে পিএফআই এবং এসডিপিআই একে অপরের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। 

জেলা ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের এক অফিসার বলেন- মুর্শিদাবাদ জেলাতে সামশেরগঞ্জের পাশাপাশি বেলডাঙ্গা, সুতি এবং লালগোলা থানা এলাকাতে পিএফআই এবং এসডিপিআই তাদের সংগঠন যথেষ্টই বিস্তার করেছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের দুটি পৃথক স্থানে এসডিপিআই এবং পিএফআই সভা করবে। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এই দুই রাজনৈতিক দল বেশিরভাগ সময়ই কোনও সভা করার আগে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেয় না। তাই এই সম্ভাব্য সভা সম্পর্কে পুলিশের কাছে এখনও কোনও তথ্যই নেই। 

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানান- সিএএ আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদ জেলাতে প্রচুর সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছিল এবং একাধিক ট্রেনেও আগুন ধরানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে তদন্তে জানতে পারা কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা জানতে পারেন মুর্শিদাবাদে এই হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালানোর জন্য বিপুল বিদেশি আর্থিক অনুদান এসেছিল। 

ওই আধিকারিক জানান- মুর্শিদাবাদের পিএফআই এর 'ইউনিটি মার্চের' সময় ওই দলের কর্নাটক রাজ্য সভাপতি মহম্মদ সাকিব মুর্শিদাবাদ জেলাতে এসেছিলেন। সেইসময় জেলা এবং রাজ্যের পিএফআই এবং এসডিপিআই নেতাদের সাথে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ঠিক হয়েছিল কীভাবে এবং কোন ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে আগামীদিন তাদের আন্দোলন চলবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন- নুপূর শর্মা ইস্যুতে মুর্শিদাবাদ যখন উত্তাল হয়ে ওঠে তখন ওই দুই রাজনৈতিক দলের অনেক পরিচিত মুখকে সেই আন্দোলনে সামনে থেকে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল। ওই আন্দোলন জেলাতে একাধিক স্থানে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছিল। 

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওই আধিকারিক বলেন- মুর্শিদাবাদ জেলাতে এই দুই সংগঠনের মাথাতে ৪-৫ জন ব্যক্তি থাকলেও তাঁরা খুব দ্রুত প্রচুর সংখ্যক অনুগামীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় 'মবিলাইজ' করতে পারেন। কিন্তু এই কাজের জন্য তাঁদেরকে কারা টাকা যোগান দিচ্ছেন তা এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

যদিও এনআইএ রেইড শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলার একাধিক শীর্ষ পিএফআই এবং এসডিপিআই নেতার ফোন বন্ধ করা রয়েছে। এসডিপিআই দলের সামশেরগঞ্জ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তাঁর নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। 

আকর্ষণীয় খবর