আজকালের প্রতিবেদন: বেহাল অবস্থা হাওড়ার। শুক্রবারও উত্তর থেকে মধ্য হাওড়ার বহু এলাকা জলমগ্ন। পানীয় জলের সমস্যায় জেরবার শহরবাসী। বহু এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিহীন। বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের গাড়ি পাঠিয়ে জল–সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। হাওড়া পুরনিগমের সবক’‌টি পানীয় জলের গাড়ি ছাড়াও কলকাতা পুরনিগম থেকে আরও ৫০টি পানীয় জলের গাড়ি হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে। সাঁতরাগাছি ঝিলেও প্রচুর মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা গেছে।
উত্তর হাওড়ার ব্যানার্জি বাগান, পালের বাগান, কৈবর্ত্যপাড়া লেন, মহীনাথ পোড়েল লেন, নস্করপাড়া রোড, ঘুসুড়ির একাধিক এলাকায় কোথাও এখনও হাঁটু–জল, কোথাও গোড়ালি–ডোবা জল দাঁড়িয়ে। অনেক বাড়িতে এখনও জল ঢুকে। মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলা, টিকিয়াপাড়া, বেলিলিয়াস লেন, দশরথ ঘোষ লেন, বেনারস রোড, রামরাজাতলার একাধিক এলাকা জল থই থই করছে। জল নামানোর পাম্পগুলিও জলে ডুবে যাওয়ায় জল সরাতে দেরি হচ্ছে। অনেক এলাকায় নতুন পাম্পও বসানো হয়েছে। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই টাইম কলে জল আসেনি। পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাম্পে জল ঢুকে যাওয়ায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলি মেরামতের কাজ চলছে। এদিন সেই কাজ খতিয়ে দেখতে পদ্মপুকুরে যান সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি বলেন, ‘‌যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। শিগগিরই জল সরবরাহ শুরু হবে। এদিন শহরের সর্বত্র পর্যাপ্ত পানীয় জলের গাড়ি পাঠিয়ে জল দেওয়া হয়েছে।’
প্রশাসন, পুরনিগমের কর্মীদের যৌথ চেষ্টায় ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ভেঙে–পড়া গাছ ও গাছের ডালপালা অধিকাংশই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এদিনও হাওড়ার অনেক এলাকা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন। বিশেষত যে সব এলাকা এখনও জলমগ্ন বা ছেঁড়া তার জমা জলের ওপর পড়ে রয়েছে সে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। সিইএসসি ও বিদ্যুৎ পর্ষদের কর্মীরা দিনরাত এক করে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে চলছেন। হাওড়ার বেশ কিছু এলাকায় এদিনও মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থেকেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দু–একদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন পুরনিগমের আধিকারিকরা।‌      ছবি:‌ কৌশিক কোলে‌

জনপ্রিয়

Back To Top