আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চতুর্থ দফার ভোটের সকালেই বোমা ফাটালো বিজেপি। বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে, স্বীকার করলেন খোদ পিকে‌!‌ এমনই এক অডিও প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি। তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও পিকের দাবি, তাঁর সম্পূর্ণ কথোপকথনের থেকে কিছুটা তুলে এনে প্রচার করছে বিজেপি।

 

 

অমিত মালব্যের করা টুইটে দেখা যায়, বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জনপ্রিয়তা সমান বলে প্রথমেই দাবি করেন পিকে। ধর্মীয় মেরুকরণ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, মতুয়া ও তফশিলি ভোট এই প্রধান তিনটি ফ্যাক্টর কাজ করছে বিজেপির পক্ষে। এই অডিওটিতে পিকেকে বলতে শোনা গিয়েছে, বাংলার ভোটে হাওয়া বিজেপির পক্ষেই আছে। সমীক্ষায় বেশিরভাগ ভোটদাতাই বলেছেন, বিজেপিই সরকার গড়তে চলেছে বাংলায়। এমনকি অধিকাংশ বাম সমর্থকেরাও বিজেপিকে ভোট দেবে বলে জানিয়েছেন। এমনকি মতুয়াদের একটি বড় অংশ এইবারও বিজেপিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন পিকে। 
ওই অডিওটিতে শুনতে পাওয়া যায় পিকে বলেন, ‘‌বাইরে থেকে আমরা ভাবি তৃণমূল স্তরে বোধহয় বিজেপির সংগঠন নেই। এমনটা কিন্তু নয়, বিজেপির প্রচুর কর্মী রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বামেদের ঘর থেকে এসেছে। তবে তাঁরা একনিষ্ঠভাবে বিজেপি করছেন। একটা-দুটো জেলা ছাড়া বিজেপির সংগঠন সব জায়গায় শক্তিশালী’‌। তিনি আরও বলেন, এরাজ্যে হিন্দিভাষীদের ১ কোটির বেশি ভোট রয়েছে। দলিত রয়েছে ২৭ শতাংশ। আর তারা সবাই বিজেপির পাশে। এর সঙ্গে মেরুকরণ তো আছেই।’‌ 
ওই কথোপকথনে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাহলে কারা তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে? প্রশান্তের উত্তর, ‘‌৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হিন্দু বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে.‌.‌.‌।’‌ অমিত মালব্যের করা টুইটে তারপরের অংশ আর ছিল না। সংখ্যালঘু তোষণ যে বাংলায় মেরুকরণ করেছে, তাও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন প্রশান্ত। তারই পাশাপাশি শুধু তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন পিকে। এর জন্য বাম, কংগ্রেসও সমানভাবে দায়ী। প্রশান্তের কথায়, ‘‌গত ২০ বছর ধরে চলেছে সংখ্যালঘু তোষণ। রাজনীতির একটাই অভিমুখ, মুসলিমরা যাকে ভোট দেবে সরকার তার। এটাই বাম, কংগ্রেস বা দিদির রাজনৈতিক কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম ভোট পাওয়ার রাজনীতি করেছে সকলে। এইবার প্রথমবার হিন্দুদের মনে হচ্ছে, আমাদের ভোটেরও গুরুত্ব রয়েছে। আর এগুলিই ব্যবহার করছে বিজেপি। সংখ্যালঘু রাজনীতি অপব্যবহার করেছে এই পার্টিগুলি। এ অস্বীকার করতে পারি না।’‌ যদিও ওই অডিওতে পিকে-‌কে বলতে শোনা যায়, মহিলারা কাকে ভোট দেন তার ওপরও মমতার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে। রাজ্যের মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্প করেছেন মমতা। আর সম্ভবত সেই কারণেই এই মন্তব্য করেন পিকে। 

 

যদিও, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পিকে পাল্টা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আংশিক অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে লাফালাফি করছে বিজেপি। যদিও ডেরেক ও’‌ব্রায়েন বলেছেন, বিজেপি রাজ্যে হারছে। নন্দীগ্রামে মমতা জিতছেন। তাই মরিয়া হয়ে মিথ্যে প্রচার করছে বিজেপি। বিজেপির এটি ‘‌মাইন্ড গেম’‌, তাদের এই কৌশল কাজে আসবে না। সম্পূর্ণ এই অডিও প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে এই অডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। পিকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, এই অডিও সত্যই তা কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখনও বাকি চার দফার নির্বাচন। তার আগে এই খবর সামনে আসতে ফের তরজা তৃণমূল-‌বিজেপি-‌র। যদিও পিকে এদিনও টুইটে বলেছেন, ডবল ডিজিট পেরবে না গেরুয়া শিবির।

জনপ্রিয়

Back To Top