আজকালের প্রতিবেদন: ব্রিগেড সভার ৪৮ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ব্রিগেডের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, ‘‌বিজেপি এবার নির্বাচনে ১২৫–‌এর বেশি আসন পাবে না। কংগ্রেস কত পাবে, তা আমি বলতে পারব না।’‌ বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্ন থেকে ব্রিগেডের প্রস্তুতি দেখতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। খুঁটিনাটি সব বিষয়ে তিনি জেনে নেন। রাজ্য নেতাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মমতার সঙ্গে। এছাড়া ছিলেন কলকাতা পুলিশের কয়েকজন আধিকারিক।
প্রস্তুতি দেখার পর সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘‌ব্রিগেডের সভায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, ৩ জন মুখ্যমন্ত্রী, কয়েকজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী–‌সহ বেশ কয়েকজন জাতীয় স্তরের নেতা থাকবেন। তাঁরা তাঁদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি শুধু শুনব। কারও ওপর কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কংগ্রেসের সঙ্গে একই মঞ্চে থেকে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা হবে।‌’‌ মল্লিকার্জুন খাড়গে ও অভিষেক মনু সিংভির নাম জানিয়ে সাংবাদিকদের কাছে কংগ্রেস সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা এদিন তিনি বলেন, ‘‌শুক্রবার থেকেই কুমারস্বামী, অখিলেশ, শারদ পাওয়ার, বিএসপি–‌র সতীশ মিশ্র, শারদ যাদব, ফারুক ও ওমর আবদুল্লা, বাবুলাল মারান্ডি আসবেন। আমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছি। ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ হচ্ছে। এর আগে এত বড় সমাবেশ হয়নি। বিজেপি–‌র কফিনে শেষ পেরেক মারা হবে।’‌ মায়াবতীর ডান হাত সতীশ মিশ্র আসায়, ব্রিগেডের সভার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেল। মমতা ক্রমশই জাতীয় স্তরে নিজের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছেন। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, বিজেপি বিরোধী মমতার লড়াইয়ে বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর পূর্ণ সমর্থন আছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ব্রিগেড থেকেই বিজেপি বিরোধী জোটের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। পরবর্তী রণকৌশল ঠিক হবে। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, বিজেপি ক্রমশই মানুষের মন থেকে দূরে সরে গেছে। ক্রমাগত জনবিরোধী নীতি নেওয়ার ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। মমতা–‌সহ সব নেতাই মনে করেন, ২০১৯–‌এ নতুন দিন আসবে। শান্তিপূর্ণ ভারত তৈরি হবে।
মমতা ব্রিগেডে থাকাকালীনই সন্ধে নেমে আসে। চারদিক ভাল করে দেখে নেন। নিরাপত্তার দিকটাও ঠিক আছে কিনা তা–‌ও তিনি পুলিশ আধিকারিকদের কাছ থেকে জেনে নেন। এদিন মাঠেই স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে পুলিশ কর্তাদের বৈঠক হয়েছে। সকলকেই দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে যাতে সভা হয়, তা নিয়েও মমতা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্রিগেডের মাঠে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘‌ব্রিগেডের সভার শেষে বাইরের রাজ্যের নেতাদের চা–‌চক্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৌজন্যের এই অনুষ্ঠান হবে বিকেল ৪টেয়। যাঁরা আসছেন, তাঁরা যদি মিডিয়াকে কিছু বলতে চান, তার ব্যবস্থাও করা হবে। এদিন মমতা বলেন, ‘‌বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে জনতার মহাজোট তৈরি হচ্ছে।’‌ বাম নেতাদেরও মমতা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌অনেকের বাধ্যবাধকতা আছে, প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা উদ্দেশ্য থাকে। আমি এটুকু বলতে পারি, আগামী নির্বাচনে আঞ্চলিক দলগুলি নির্ণায়ক শক্তি হবে। ১৯৯৩ সালে বামেদের বিদায়ের জন্য মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলাম।’‌
এদিন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটে লেখা হয়েছে, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বিজেপি–‌র মৃত্যুঘণ্টা বাজানো হবে। আগামী দিনে এই আন্দোলনে সবাইকে শামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪টি ভাষায় টুইট করা হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও ওড়িয়া।‌ ব্রিগেডের সভা নিয়ে মমতা এর মধ্যে নবান্নে বেশ কয়েকবার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনা হয়েছে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে। এরই মধ্যে ব্রিগেড পরিদর্শন করে এসেছেন নগরপাল রাজীব কুমার। রাজ্য নেতাদের বারবার বলা হয়েছে, অতীতে যে ক–‌বার ব্রিগেড করা হয়েছে, তার তুলনায় এবারের ব্রিগেডের তাৎপর্য অন্যরকম। জাতীয় নেতারা আসছেন। তাঁরা তাঁদের বক্তব্য শোনাবেন। তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, মমতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকেই বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবেন। যার যেখানে যত শক্তি আছে, তা নিয়ে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দলগুলি লড়াই করবে।
২০১৪–‌র নির্বাচনে বাংলা থেকে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৪টি আসন। বিভিন্ন সভায় মমতা বলেছেন, ‘‌এবার ৪২–‌এর মধ্যে ৪২টি আসনই তৃণমূল পাবে।’‌ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা এ–‌ও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‌বাংলায় তৃণমূল একা লড়াই করবে।’‌ তার জন্য প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূল মনে করে, রাজ্যে সিপিএমের কোনও অস্তিত্ব নেই। সর্বভারতীয় স্তরে তারা কী করবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ২০১৪–‌য় নির্বাচনে জেতার পর, দলের সাংসদদের কাজে সন্তুষ্ট দলের নেত্রী। অধিকাংশ সাংসদ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করেছেন। তাঁরা আরও জনসংযোগ বাড়িয়ে তুলছেন। মানুষের অভাব–‌অভিযোগ শুনছেন। সংসদের ভেতরে দলের সাংসদরা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।‌

 

সভার প্রস্তুতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি, ইন্দ্রনীল সেন।বৃহস্পতিবার, ব্রিগেডে। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top