আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর কেটে গেছে ২৮ বছর। ৩০ সেপ্টেম্বর এই নিয়ে রায় ঘোষণা হবে। শুনানি শেষে বুধবার জানিয়ে দিল বিশেষ সিবিআই বিচারক এসকে যাদব। পাশাপাশি ওই দিন আদালতে আডবানি সহ বাকি অভিযুক্তদেরও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। 
ওই মামলায় প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবানি সহ মোট ৩২ জন অভিযুক্ত হয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি–র উমা ভারতী, বিনয় কাটিয়ার, মুরলি মনোহর যোশী, সাক্ষী মহারাজ, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং। রায় ঘোষণার দিল এঁদের সকলকেই উপস্থিত থাকতে হবে আদালতে। 
গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট এই রায় ঘোষণার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট দু’‌ বছরের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়। বিশেষ বিচার এসকে যাদব সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানালে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভাঙা হয় বাবরি মসজিদ। ‘‌করসেবক’‌রা দাবি করেন, ওই স্থানে প্রাচীন একটি মন্দির ভেঙে তৈরি হয়েছিল মসজিদ। রামের জন্মস্থান হিসেবে চিহ্নিত ছিল জায়গাটি। অভিযোগ, ওই মসজিদ ভাঙার প্ররোচনা দিয়েছিলেন আডবানিরা। তখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিজেপি নেতা কল্যাণ সিং। এই মসজিদ ভাঙার জেরে গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয়। মারা যান প্রায় ৩,০০০ জন। ভেঙে দেওয়া হয় কল্যাণ সিংয়ের সরকার।
গত নভেম্বরে ‘‌বিতর্কিত’‌ ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ৫ আগস্ট মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপিত হয়। এবার মসজিদ ভাঙার মামলায় রায় দেবে বিশেষ সিবিআই আদালত।
২৪ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সে নিজের বয়ান রেকর্ড করেন ৯২ বছরের লালকৃষ্ণ আডবানি। তার একদিন আগে বয়ান রেকর্ড করেন মুরলি মনোহর যোশী। জানা গেছে, দু’‌জনেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর এক অভিযুক্ত উমা ভারতী যদিও স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, এই রায় নিয়ে তিনি ভাবিত নন। ‘‌যদি জেলে যাই, সেটাই আমার জন্য আশীর্বাদ হবে।’‌
এই মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন ৪৯ জন। ১৭ জন মারা গেছেন। ১ সেপ্টেম্বর অপরাধ সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা মেনে ৩২ জন অভিযুক্তের বয়ান জমা দেওয়া হয় আদালতে। সেই সঙ্গে বিবাদী পক্ষের লিখিত বক্তব্যও জমা পড়ে। এক সপ্তাহ আগে বাদী পক্ষও বক্তব্য জমা দিয়েছে। ৩৫৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top