আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আবার আদালতের ভর্ৎসনা শুনতে হল দিল্লি পুলিশকে। ভীম আর্মির সুপ্রিমো চন্দ্রশেখর আজাদের গ্রেপ্তারি মামলায় মঙ্গলবার দিল্লির এসিজে কোর্টের বিচারক কামিনী লাউ দিল্লি পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বললেন, ‘প্রতিবাদ জানানো প্র‌ত্যেক মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। আর মানুষ রাস্তায় নেমেছেন কারণ সংসদের ভিতরে যা বলার দরকার ছিল সেটা সেখানে বলা হয়নি।’‌ এরপরই আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চার্জ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একহাত নিয়ে বিচারক বলেন, ‘‌আপনি এমন করছেন যেন জামা মসজিদ পাকিস্তানে। যদি তাও হত, তাহলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা যেত না। কারণ পাকিস্তান অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল।’
‌গত ২০ ডিসেম্বর জামা মসজিদের সামনে সিএএ বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিল ভীম আর্মি। সেসময় ভিড়ের মধ্যে আজাদকে ধরতে পারেনি পুলিশ। পরদিন তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করেন থানায়। তারপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে এই মর্মে এফআইআর রুজু হয় যে, আজাদ হিংসা বাঁধানোর ও সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। 
বিচারক সরকারি আইনজীবীর কাছে আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর–এর চার্জের প্রমাণ চাইলে তিনি এব্যাপারে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন সেটা খুঁজে দেখতে হবে তাঁকে। নিজের সওয়ালের পক্ষে সরকারি আইনজীবী আজাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উল্লেখ করেন, যেখানে আজাদ হিংসা ছড়ানোর উস্কানিমূলক বার্তা লিখেছিলেন। ধর্ণায় বসার জন্য জামা মসজিদে যাওয়ার পোস্টটি পড়ার পর বিচারক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘‌ধর্ণায় বসলে সমস্যা কোথায়?‌ প্রতিবাদ করলেই বা ভুলটা কী?‌ এটা তো একজনের সাংবিধানিক অধিকার?‌ এখানে হিংসাটা কোথায়?‌ এই পোস্টটাতেই বা কী ভুল আছে?‌ কে বলেছে আপনাকে যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবেন না, আপনি কি আদৌ ভারতের সংবিধান পড়েছেন?’‌ আজাদের কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টই অসাংবিধানিক নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন বিচারক লাউ।
সরকারি আইনজীবীকে এরপর বিচারক আরও কড়া ভাষায় বলেন, সংসদের বাইরেও প্রতিবাদ হয়। কোনও ধর্মীয় স্থানে প্রতিবাদ দেখানো দেশের কোনও আইনেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। যদিও নিজের সাফাইয়ে আইনজীবী ফের বলেন ড্রোন ফুটেজের তথ্য রয়েছে তাঁদের কাছে যেখানে আজাদকে উস্কানিমূলক কথা বলতে শোনা গিয়েছে। সেই তথ্য আদালতে পেশ করার জন্য সময় চান তিনি বিচারকের কাছে।
নিজের জামিনের আবেদনে আজাদ আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, তাঁকে উস্কানির যন্ত্র বলে এফআইআর–এ উল্লেখ করেছে পুলিশ। এমনকি তাঁকে প্রকৃত আইন মেনেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার।‌

জনপ্রিয়

Back To Top