সুপ্রতিম মজুমদার, উলুবেড়িয়াঃ চরম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হাওড়ার গ্রামীণ জেলা এলাকা। বুধবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকার উপর তাণ্ডব চালায় আমফান। সরকারি প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, আমফানের তাণ্ডবে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক হাজার মাটির বাড়ি। প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে গ্রামীন হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে শ্যামপুর–১, বাগনান–২, উলুবেড়িয়া–১ ব্লক এলাকায়। আংশিক ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে শ্যামপুর–২, বাগনান–১, উলুবেড়িয়া–২, আমতা–১, আমতা–২, উদয়নারায়ণপুর ও জগৎবল্লভপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। এছাড়াও উদয়নারায়ণপুর, আমতা ও বাগনান এলাকার চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। বাগনানের ফুল ও পান চাষীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক তুষার সিংলা রাত জেগে প্রতিটি বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সমস্ত রকম প্রয়াস চালিয়ে যান। বুধবার দুপুর থেকেই হাওড়ার গ্রামীণ এলাকা জুড়ে ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। সময় যত এগিয়েছে বাতাসের দাপট ততই বেড়েছে। সন্ধ্যের আগেই ঝোড়ো হাওয়ার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে আমফান। প্রচন্ড গতিবেগে একের পর এক গ্রাম অতিক্রম করতে থাকে এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়। বিশাল বড় বড় গাছগুলিকে দৈত্যের মতো উপড়ে ছুঁড়ে ফেলতে থাকে। তারই পাশাপাশি অসংখ্য বাড়ির টিন ও টালির চাল খোলামকুচির মতো উড়ে যেতে থাকে। তাসের ঘরের মতো পড়তে থাকে একের পর এক মাটির বাড়ি। বুধবার সকালেই বাগনান–১ বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ঝড়ের মোকাবিলা করতে থাকেন। জয়েন্ট বিডিও সন্দীপ দাসকে এলাকায় ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে পৌঁছে দিতে দেখা যায়। যে ভয়ঙ্কর গতি নিয়ে আমফান হাওড়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল যদি সময় থেকে মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে না নিয়ে যাওয়া হত তাহলে বড় রকমের বিপর্যয় ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। হাওড়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমেশ পাল জানান ধান কাটা শুরু হলেও মাঠে এখনও ১৫ শতাংশ পাকা ধান রয়ে গিয়েছে। ঝড়ে এই ১৫ শতাংশ পাকা ধান ছাড়াও তিল, বাদাম ও সমস্ত রকম সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা জানান, তাঁর এলাকায় পাকা ধানের পাশাপাশি সবজির বিশাল ক্ষতি হয়েছে। মাচার ফসল হিসাবে পটল, ঝিঙে, চিচিঙ্গে, তরুলি চাষেও বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে আমফান। সমস্ত মাচা গুলি ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। বাদাম, তিল, কচু গাছ মাটিতে শুয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হল। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে রয়েছে। প্রতিটি নদ–নদীতে জল বাড়ায় নদী বাঁধের উপরে ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেও তার পরেও যে কোনও রকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল বাহিনী, কুইক রেসপন্স টিমকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছবি– প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top