আজকালের প্রতিবেদন: প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের দুই ঘনিষ্ঠ পুলিস অফিসারকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। ওই দুই পুলিস অফিসারের নাম শুভঙ্কর দে এবং চিত্ত পাল। এক স্বর্ণব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে দাশপুর থানায় তোলাবাজির মামলা দায়ের হয়।
ঘাটালের সার্কেল ইনস্পেক্টর শুভঙ্কর পালের বাড়ি থেকে ৪০ লাখ টাকা উদ্ধার করে সিআইডি। ঘাটাল থানার ওসি চিত্ত পালের বাড়ি থেকে মিলেছে ১৬ লাখ টাকা। হিসেব বহির্ভূত এই টাকা কোথা থেকে এল?‌ তার সদুত্তর দিতে পারেননি দু’‌জনের কেউই। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই দুই অফিসারের কাছ থেকে যে টাকা মিলেছে, পুরোটাই ‘‌তোলাবাজি’‌র টাকা। এদিকে শনিবার ভারতী ঘোষের স্বামী এম এ ভি রাজুকে সিআইডি এবং কলকাতা পুলিস তলব করেছে।
মাদুরদহে ভারতী ঘোষের স্বামী মোতামারি আপ্পানা বিররাজুর ফ্ল্যাট থেকে নগদে ২ কোটি ৪০ লাখ উদ্ধার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। ওই পরিমাণ টাকার বেশিরভাগই নতুন ৫০০ টাকার নোটে। নোটবন্দির পর ২ লাখের বেশি নগদে লেনদেন করা যাবে না, এমনই নিয়ম করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা নতুন নোটে এক জায়গায় কী করে এল তা নিয়েই সিআইডি–‌র প্রশ্ন।

সূত্রের খবর, ওই পরিমাণ টাকার পেছনে হুন্ডি চক্রের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা–ও দেখা হচ্ছে। এক লপ্তে এত টাকা ঘরে মজুর রাখার কারণই বা কী!‌ সে–প্রশ্নটিও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তল্লাশির দিন, প্রায় দিনভর নোট গোনার কাজ করেছে সিআইডি। এর আগে দাসপুর থানার মামলার তদন্তে ৬০ লাখ নগদে উদ্ধার হয়েছিল। ওই পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল এবং তা আলমারিতে মজুত করা নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। সিআইডি–আধিকারিকরা দেখছেন এই টাকার পেছনে কে বা কারা জড়িত। একটি সূত্রের খবর, সিআইডি অন্য রাজ্যে যে কয়েকটি দল পাঠিয়েছে, তারাও দেখছেন, নগদ টাকার চক্রে কারা কারা জড়িত। বিররাজুর যে সমস্ত জমির দলিল মিলেছে, সেগুলি নিয়েও তদন্ত করে দেখছে পুলিস। দেখা যাচ্ছে, ঝাড়গ্রামের নেদাবহরা অঞ্চলে তিনটি জমি রয়েছে তাঁর নামে। প্রায় তিন একরের বেশি। নেদাবহরা এক সময় মাওবাদীদের গড় বলে পরিচিত ছিল। সেখানে মাওবাদীরা নিহতদের স্মৃতিসৌধও গড়েছিল। সেখানে বিররাজু জমি কিনেছিলেন। ২০১৬–‌’‌১৭ সালে। এ ছাড়াও, পাটুলি, শেক্সপিয়র সরণিতে রজত টাওয়ার্সে বারোশো বর্গফুটের ফ্ল্যাট, জয়নগরে, বীরভূমের ইলামবাজারে (‌সেখানে তিনটি জমি)‌।

কলকাতায় আনন্দপুর এলাকায় জমি। একই জায়গা থেকে জমির দলিল, সোনা, নগদ উদ্ধার ঘিরে ক্রমশই রহস্য দানা বাঁধছে। সম্প্রতি, ফাইল উদ্ধার ঘিরে যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে অবশ্য প্রাক্তন
আইপিএস ভারতী ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, চাকরি ছাড়ার সময় তিনি সবই বুঝিয়ে দিয়ে এসেছেন। সিআইডি তল্লাশি করার সময়, ফাইলগুলো কী হেঁটে হেঁটে চলে এল?‌ এদিকে, শুক্রবার নেতাজিনগর থানায় দেখা করার কথা ছিল বিররাজুর। তিনি যাননি। অন্যদিকে, সিআইডি–‌র নোটিসের প্রেক্ষিতে তিনি এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। কিন্তু টাকার উৎস এখনও স্পষ্ট নয় সিআইডি–‌র কাছে। যে পরিমাণ টাকা মজুত করা হয়েছিল বলে সিআইডি সরকারিভাবে জানিয়েছে, তার উৎস নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
দীর্ঘ তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ফ্যান, ফ্রিজ, খাট–‌পোশাক সবই। সরকারি ফাইলপত্র আলমারিতে রেখেছিলেন ভারতী ঘোষ। তা ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি সরকারি কাজকর্মের ফাইলও উদ্ধার হয়েছে। ভারতী ঘোষ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি সমস্তই বুঝিয়ে দিয়েছেন ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার সময়।

জনপ্রিয়

Back To Top