আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় বচসা চলাকালীন এক যুবককে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে ধীরেন্দ্র সিং নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই ওই যুবক পলাতক। এই ঘটনা ঘটেছে আধিকারিক ও পুলিশের সামনেই। কিন্তু ঘটনার দায় নিজের উপর নিতে চাইলেন না ধীরেন্দ্র। বরং এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায় চাপালেন তিনি।
ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের কথা বলেছেন ওই যুবক। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌আমি জানি না কে গুলি চালিয়েছিল। আমি আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম আমার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। তাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিলেন। আমি একজন জওয়ান। আমি সবসময় দেশের হয়ে কাজ করেছি। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায্য তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’‌ 
ভিডিও বার্তায় ধীরেন্দ্র বলেন, ‘‌এই বৈঠকে অনেক আধিকারিক ছিলেন। আমি তাঁদের আগেই সতর্ক করেছিলাম যে সেখানে গণ্ডগোল হতে পারে। কিন্তু তাঁরা বৈঠক চালু রাখেন। সংঘর্ষে প্রশাসনের আধিকারিকরাই যুক্ত ছিলেন।’‌ তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপর আরও অভিযোগ জানিয়েছেন যে অনেক বলার পরেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি। এই ঘটনায় তাঁর পরিবারের একজনের মৃত্যু হয়েছে ও আটজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন ধীরেন্দ্র।
এখানেই থেমে থাকেননি ধীরেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, ‘‌আমার বাবাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়েছে। আমার পরিবারকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। আমাকে মারা হয়েছে। ভিডিওতেই সব দেখা যাচ্ছে। আমি একজন রাজপুত। আমি ১৮ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছি। আমি নিজেকে বাঁচিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। নাহলে ওরা আমাকে মেরেই ফেলত।’‌ 
এই ভিডিও বার্তার আগেই অবশ্য এক বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং ধীরেন্দ্রর সমর্থনে মুখ খুলেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র।
এই ঘটনার পরে অবশ্য ধীরেন্দ্রর ভাই সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধীরেন্দ্র সিংয়ের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর খোঁজ দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় অবশ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তাই সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সুরেশ চন্দ্র পাল ও সার্কেল অফিসার চন্দ্রকেশ সিংকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

জনপ্রিয়

Back To Top