প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়: ট্রলি ব্যাগের মধ্যে তরুণীর কাটা মুন্ডু। ব্যাগের অন্য চেনের মধ্যে পিস পিস করে টুকরো করা তরুণীর দেহাংশ। পাশেই আরও একটি ব্যাগে চপার, ভোজালির মতো একাধিক অস্ত্রশস্ত্র এবং জামাকাপড়। বৃহস্পতিবার বালির জেটিয়া ঘাটে আসা লোকজনেরা রোমহর্ষক এই ঘটনার সাক্ষী রইলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেটিয়া ঘাটে গঙ্গার পাড়ে পাশাপাশি পড়ে ছিল ব্যাগ দুটি। গঙ্গার ঘাটে আসা লোকজনের ব্যাগ দুটি দেখে সন্দেহ হয়। তাঁরা প্রথমে ট্রলি ব্যাগটি খোলেন। আর ওই ব্যাগের চেন খুলতেই তাজ্জব হয়ে যান সকলে। দেখা যায় ব্যাগের সামনের চেনের ভেতরে রয়েছে এক তরুণীর কাটা মুন্ডু। আর ওই ব্যাগেরই ভেতরের চেনে ভরা রয়েছে তরুণীর পিস পিস কাটা রক্তমাখা দেহাংশ। তবে ছিল না দুটি হাত। এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন সকলে। খবর পেয়ে বালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পাশেই পড়ে থাকা কাপড়ের ব্যাগটিও সকলের সামনেই খোলেন পুলিশকর্মীরা। দেখা যায় ওই ব্যাগের ভেতর ৫টি ধারালো অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি চপার, ১টি ভোজালি ও ১টি ছুরি। এছাড়াও এই কাপড়ের ব্যাগেই পাওয়া গেছে কাদা মাখা নীল রঙের জিনসের প্যান্ট, কালো জামা ও একটি গ্লাভস। তবে পোশাকগুলি কার তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেগুলি ওই তরুণীর কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খবর চাউর হতেই বহু কৌতূহলী মানুষ জেটিয়া ঘাটে ভিড় জমান। মহিলাকে খুন করে ব্যাগে ভরে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল নাকি ব্যাগ দুটি ভেসে পাড়ে এসেছিল তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। এরই পাশাপাশি বালি ব্রিজ থেকে ব্যাগ দুটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি ব্যাগই উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। নিহত তরুণীকে শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। মুন্ডু–‌সহ দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক বিশষজ্ঞদের একটি দল এদিন বেলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করে নিয়ে যান তাঁরা। তবে বালি ব্রিজে এবং জেটিয়া ঘাট লাগোয়া এলাকায় কোনও সিসি ক্যামেরা না থাকায় ব্যাগ দুটি কীভাবে সেখানে এল, তা এখনও স্পষ্ট করে বুঝতে পারছেন না পুলিশকর্তারা। ভোর থেকে ঘাটে আসা লোকজন ও মাঝিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানান,‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে কিছু সূত্র আমাদের হাতে এসেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে’‌।

ঘটনাস্থলে পুলিশকর্মীরা। ছবি:‌ কৌশিক কোলে  

জনপ্রিয়

Back To Top